নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক নুরানী মাদরাসার অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে একটি মাদরাসা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সবুজ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার আলী জাফর (২৮) একই ইউনিয়নের আমিলাপাড়া এলাকার হাসান শরীফের ছেলে এবং সবুজ বাজার আল-হেরা এবতেদায়ী ও নুরানী মাদরাসার অধ্যক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আল-হেরা মাদরাসার সামনে কয়েকজন ব্যক্তি আলী জাফরকে মারধর করতে করতে আমিলাপাড়ার দিকে নিয়ে যায়।
এ সময় তিনি চিৎকার করলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে খবর ছড়িয়ে পড়ে, হামলাকারীরা তাকে জমির হোসেনের বাড়িতে আটকে রেখেছে। পরবর্তীতে তাকে একটি মাদরাসার কক্ষে অবরুদ্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পেছনে পাশাপাশি দুটি নুরানী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হামলার শিকার আলী জাফর বলেন, গত ১০ মে আল-হেরা মাদরাসার উদ্বোধন হয়। সোমবার সকালে কিছু শিক্ষার্থী আমাদের মাদরাসায় আসছিল।
তখন ইমাম আজম এবতেদায়ী মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাধা দেয় এবং তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যেতে চাপ দেয়।
খবর পেয়ে আমি সেখানে গেলে জমির হোসেন, বদিউল আলম মেস্ত্রী, কায়সার মহসিন ও আবু হানিফ আমাকে বেধড়ক মারধর করে।
পরে আমাকে টেনে-হিঁচড়ে জমিরের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে।
পরে আবার ইমাম আজম (রাঃ) মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের কক্ষে রাখা হয়। পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগের দিন রাতেও তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আল-হেরা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, ২০২০ সালে আল-হেরা এবতেদায়ী ও নুরানী মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
আগে বায়তুন নুর নতুন জামে মসজিদের মাঠে কার্যক্রম চলত। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে মসজিদ কমিটির সভাপতি জমির হোসেনসহ একটি পক্ষ আমাদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে দিতে চাপ দেয়।
পরে তারা সেখানে ‘ইমাম আজম এবতেদায়ী মাদরাসা’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালু করে। বাধ্য হয়ে আমরা অন্যত্র কার্যক্রম শুরু করি।
কয়েকজন মিলে শিক্ষক আলী জাফরকে মারধর করছিল। তিনি চিৎকারকরলেও কেউ ভয়ে এগিয়ে যায়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ছরওয়ার আলম ও আবু হানিফ বলেন, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে মারধর করা জঘন্য ঘটনা। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে ইমাম আজম (রাঃ) এবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক লোকমান হাকিম বলেন, আলী জাফরকে মারধর করা হয়েছে।
পরে তিনি আমার প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। পুলিশ এসে তাকে নিয়ে গেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে আরেকজন শিক্ষকের ওপর হামলা কখনো সমর্থন করি না।
পেকুয়া থানার এক এএসআই আপ্যায়ন বড়ুয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














