বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে আসা বিএনপির এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে সন্ত্রাসীরা।
এ ঘটনায় আদালত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলায় বিএনপি নেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর সহযোগী মইনুদ্দীন (৩৭) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রোববার (২৪ মে) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী, আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে আসেন।
হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করার সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এ সময় লিয়াকত আলী দ্রুত সরে গেলে গুলি গিয়ে লাগে তাঁর চাচাতো ভাই ও সহযোগী মইনুদ্দীনের পায়ে। গুলির শব্দে আদালত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ উপস্থিত লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন।
ঘটনার সময় লিয়াকত আলীর সঙ্গে থাকা লোকজন জিয়াউল হক জিয়া (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খালেদ নামের এক ব্যক্তি প্রথমে লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে জিয়াউল হককে আটক করার সময় অপর এক অস্ত্রধারী আবারও গুলি ছোড়ে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা আদালতের ভেতরের রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দিকে পালিয়ে যায়। আটক জিয়াউল হকের বাড়ি ঈদগাঁও এলাকায় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় আদালত চত্বর এলাকায় হঠাৎ ভিআইপি বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আদালত চলাকালীন সময়ে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করছেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণের ঘটনার নেপথ্যেও এক লাখ ইয়াবা লুটের বিষয় জড়িত বলে জানা গেছে।এছাড়া গুলি করা শ্যুটার জিয়া একজন রোহিঙ্গা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালানোর সময় জিয়াউল হককে আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য অস্ত্রধারীদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
ওসি আরও জানান, আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর পুলিশ লিয়াকত আলীকে হেফাজতে নেয়। এ বিষয়ে লিয়াকত আলী অভিযোগ করেন, গত বছরের ৫ অক্টোবর ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তাঁকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছিল। একই বাহিনীর সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণেও তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গনে গোলাগুলির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কক্সবাজার জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম। এ সময় জেলা প্রশাসক, এনডিসি, পুলিশ সুপার, ওসি, সদর মডেল থানা সহ প্রশাসনের এবং পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।














