বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজার শহরে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন একটি ট্রান্সফরমার চালুর ফলে লোডশেডিং অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এতে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে কলাতলী বাইপাস সড়কস্থ উপকেন্দ্রের ১০/১৩ এমভিএ ক্ষমতার একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে।
এরপর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিক দফায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পিডিবি। বিকল ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে একই উপকেন্দ্রে ১৬/২০ এমভিএ ক্ষমতার নতুন একটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়।
গত শুক্রবার বিকেল থেকে নতুন ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যায়।
কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, নতুন ট্রান্সফরমার চালুর পর লোডশেডিং প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।
আগে দিন-রাত মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না, বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার সময় ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।
সে সময় জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে প্রায় ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হয়।
পর্যটন নগরীর গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২৯ মে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ভান্ডার থেকে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন ওজনের নতুন ট্রান্সফরমার কক্সবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
৩১ মে রাতে ট্রান্সফরমারটি কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় বিশেষ ব্যবস্থায় সেটি উপকেন্দ্রে স্থাপন করা হয়।
পরে প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের টানা কয়েক দিনের প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কমিশনিং ও নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পন্ন করে ট্রান্সফরমারটি চালু করা হয়।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী বলেন, কক্সবাজার জেলা শহরে বর্তমানে একটি মাত্র গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
গ্রিড বা সঞ্চালন লাইনে কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে মেরামত কাজ করতে হয়। তবে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি আরও বলেন, “জেলাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”














