বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা তরুণদের স্বপ্ন, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করলেন UNHCR এর দূত তাহসান খান

🗓 শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

👁️ ৫৬ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

👁️ ৫৬ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট ::  জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর শুভেচ্ছাদূত, জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার ও অভিনেতা তাহসান খান বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।

সফরকালে তিনি রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা তরুণরা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটিয়েও আশা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তারা শিবিরে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিত্যদিনের নানা সংকটের কথা জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কমিউনিটির সহায়তা এবং অর্থবহ কর্মকাণ্ড কীভাবে তাদের মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে সহায়তা করছে, সে বিষয়েও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।

এ সময় তাহসান খান বলেন, “এই তরুণদের দৃঢ়তা ও অদম্য মানসিকতা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

বছরের পর বছর বাস্তুচ্যুত জীবন কাটিয়েও তারা স্বপ্ন দেখতে, শিখতে এবং একটি ভালো ভবিষ্যতের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কণ্ঠ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কেন শরণার্থীদের পাশে থাকা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।”

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এসব প্রশিক্ষণ তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করছে এবং ভবিষ্যতে নিজ দেশে ফিরে গেলে নতুনভাবে জীবন গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত করছে।

এ বিষয়ে তাহসান খান বলেন, “আজ যেসব তরুণের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তাদের অনেকেই জীবনের অধিকাংশ সময় শরণার্থী হিসেবে কাটিয়েছে। তবুও তারা শিখছে, নতুন কিছু তৈরি করছে এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে।

এই দৃঢ়তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, তরুণদের দক্ষতা ও সম্ভাবনায় বিনিয়োগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আশা জাগানোই যথেষ্ট নয়, তাদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একদিন তারা নিজ সমাজ পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”

বর্তমানে বাংলাদেশ মিয়ানমারে সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রহীন এই জনগোষ্ঠী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত।

এমন এক সময়ে তাহসান খানের এই সফর অনুষ্ঠিত হলো, যখন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনও সৃষ্টি না হওয়ায় শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সফরের শেষাংশে তাহসান খান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি তার সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আজ যেসব রোহিঙ্গা মানুষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তারা এখনও একদিন নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের পাশে থাকা এবং টেকসই সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখা।”

বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে প্রত্যাবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হলে এই জনগোষ্ঠী নিজ দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

উখিয়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঈদগাঁওতে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে হেলপার নিহত

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর