কক্সবাংলা ডটকম(২৭ জুন) :: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আরবি হরফে কালিমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে, ফ্লাইওভারে ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এসব পতাকা উড়তে দেখা গেছে।
তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কখন এসব পতাকা টাঙিয়েছে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ মোড় থেকে তাজমহল রোড হয়ে জেনেভা ক্যাম্প পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সাদা পতাকা টাঙানো হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে ইকবাল রোড, খিলজি রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। কোথাও কোথাও সড়কের মাঝখানেও আড়াআড়িভাবে পতাকা টাঙানো হয়েছে।
এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী কিংবা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পতাকাগুলো কে বা কারা টাঙিয়েছে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। অনেকেই জানান, একদিন হঠাৎ করেই এসব পতাকা দেখা যায়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর বাইরে সাভার, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট এলাকা, চট্টগ্রাম, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলাতেও একই ধরনের পতাকা দেখা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী দাবি করেন, গভীর রাতে কিছু মাদ্রাসাশিক্ষার্থী এসে লাইটপোস্টে এসব পতাকা টাঙিয়ে যায়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব পতাকা লাগিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় কালিমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে এমন পতাকা অপসারণের প্রতিবাদেও কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া পাবনা, যশোরসহ আরও কয়েকটি জেলায় একই ধরনের পতাকা নিয়ে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, তাদের সংগঠন এসব পতাকা উত্তোলন করেনি। তবে তিনি দাবি করেন, কালিমাখচিত পতাকা উত্তোলনকে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে আপত্তিকর মনে করেন না।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের পতাকা টাঙানোর প্রেক্ষাপটে ইসলামী পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে কেউ এমন পতাকা ব্যবহার করলে সেটিকে তিনি স্বাভাবিক হিসেবে দেখেন।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠী নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না, তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।














