মোঃ রমজান আলী, মহেশখালী :: মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিষাক্ত গন্ধযুক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনের অভিযোগ তুলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন।
এ ঘটনায় তদন্ত, দায় নির্ধারণ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মহেশখালী জনসুরক্ষা মঞ্চ, উপকূল ফাউন্ডেশন ও জেট-নেটওয়ার্ক।
২৮ জুন (রবিবার) বিকেল ৩টায় মহেশখালী উপজেলার বাটারফ্লাই রেস্টুরেন্টের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২২ জুন সকাল ৭টা এবং ২৩ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি থেকে ঘন কালো, দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়া নির্গত হয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পর এমন ভয়াবহ ধোঁয়া নির্গমনের ঘটনা স্থানীয়দের কাছে নজিরবিহীন বলে দাবি করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, বিষয়টিকে শুধু একটি কারিগরি ত্রুটি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
কয়লার ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তারা আরও বলেন, কয়লা পোড়ানোর ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, ভারী ধাতু ও অন্যান্য দূষিত উপাদান পরিবেশ, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা যথাযথ জবাবদিহিতা করেননি।
তারা ধোঁয়া নির্গমনের কারণ খুঁজে বের করতে স্বাধীন তদন্ত, পরিবেশগত প্রভাব যাচাই, স্বাধীন বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন-মহেশখালী জনসুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসিন, উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশন মহেশখালীর সভাপতি ও জেননেট বিডির সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক, উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশন এর যুগ্ন সম্পাদক মোস্তফা বেগম।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।














