কক্সবাংলা ডটকম(৩ জুলাই) :: ঢাকার গুলশনে ‘হোলি আর্টিজ়ান বেকারি’তে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ১০ বছর পূর্ণ হলো গত বুধবার।
২০১৬–এর ১ জুলাই রাতে এই রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে নিহত হয়েছিলেন ২২ জন।
তাঁদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, এক জন ভারতীয়, দু’জন বাংলাদেশি এবং এক জন বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক।
হামলা ঠেকাতে গিয়ে দুই পুলিশকর্তাও নিহত হন।
জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
হামলার লাইভ সম্প্রচার হয় আইএস-এর একটি সোশ্যাল সাইটে।
আইএস-এর পিডিএফ ম্যাগাজ়িন ‘দাবিক’-এ হামলার এক্সক্লুসিভ সব রক্তাক্ত ছবি এবং এক বাংলাদেশি জঙ্গির সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রত্যেক বছর জুলাইয়ের প্রথম দিনটিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মরণে রেস্তোরাঁর সামনে জড়ো হতেন দেশি-বিদেশি নাগরিকরা।
অস্থায়ী ভাবে নির্মিত একটি স্মারকে তাঁরা ফুল দিতেন, পালন করা হতো নীরবতা।
কিন্তু ২০২৪–এর জুলাই আন্দোলন এবং শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পরে পুরো প্রেক্ষাপটই যেন বদলে গিয়েছে।
কট্টরপন্থীদের একাংশ সে বছরই মিছিল নিয়ে স্মারকটি গুঁড়িয়ে দেয়।
নিষিদ্ধ সংগঠন ‘হিজবুত তাহরির’ সেখানে হামলার সমর্থনে পোস্টার মারে। ইউনূস প্রশাসন চোখ বুজেই রেখেছিল।
এর পরে গত দু’বছর ধরে গুলশনে আর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন দূতাবাসে আলাদা ভাবে অনুষ্ঠান হয়েছে।
হোলি আর্টিজ়ানে হামলার পরে গোটা দেশে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান শুরু করেছিলেন তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার।
হামলার মূল চক্রী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্যানেডিয়ান নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী-সহ শীর্ষ ৮ জঙ্গি নিহত হয়।
৭ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক জনকে খালাস করে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইবুন্যাল।
২০২৩–এর ১০ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানির পরে হাইকোর্ট এই আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেয়। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
ইউনূস জমানায় বাংলাদেশ জুড়ে হিজবুত তাহরিরের প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা গেলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে ‘জঙ্গি’ নেই।
গত বছরের হোলি আর্টিজ়ানের হামলা দিবসে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আওয়ামি লিগের সময়ে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপিলেদের মেরেছে। বাংলাদেশে কোনও জঙ্গি নেই।
‘ বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও সম্প্রতি একই সুরে বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনও জঙ্গি নেই। রয়েছে কিছু উগ্রবাদী।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছে, বাংলাদেশে উগ্রবাদের জায়গা হবে না।
কিন্তু ইউনূস জমানায় জেল পালানো জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে তাঁদের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তবে সরকার যে শান্তিতে নেই এবং দেশের অভ্যন্তরে যে উগ্রবাদের শক্তিশালী বিচরণ রয়েছে, তা পুলিশের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট হয়েছে।
সেই বিজ্ঞপ্তির পরে দেশের সব বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, দেশে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়নি। উগ্রবাদী কিছু সংগঠন নীরবে পুনর্গঠিত হয়ে অনলাইনে কর্মকাণ্ড চালিয়ে গিয়েছে। তারা নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকার পাশে কেরানিগঞ্জের একটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে একাধিক বিস্ফোরণ এবং পরে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ১৭ জনের গ্রেপ্তারের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘুম উড়িয়েছে।
এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে দেশীয় কয়েক জনের যোগ এবং দেশীয় জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’র তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সম্প্রতি গোটা দেশে আরবি হরফে কালেমার পতাকা টাঙানোর পরে কিছুটা নড়েচড়ে বসছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলি হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে ক্রাইম কনফারেন্সে উগ্রবাদী সংগঠনগুলির উপরে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনের নামে যে কোনও ‘পতাকা মিছিল’ বরদাস্ত না-করার কথা বলা হয়েছে।
যারা এই পতাকা বিক্রি ও টাঙানোয় যুক্ত তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন আইজিপি।














