বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে কক্সবাজার জেলায় তিন দিনে ১৫ জনের মৃত্যু : বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

👁️ ৫২ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

👁️ ৫২ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :: টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার জেলায় পাহাড়ধসে তিন দিনে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় ৫ জনের মৃত্যু হয়।

গত রোববার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৮ জন, জেলা সদরে ১ জন, পেকুয়ায় ১ জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সর্বশেষ বুধবার উখিয়া  রোহিঙ্গা শিবিরে ৫ জন শিশু নিহত হয়।

কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরে মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) দেয়াল ও মাটিচাপার ঘটনায় পাঁচ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে।

আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন নিহত চার ছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

তারা হলো ৫ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উন্মে নেজাতুল (১৩) ও উন্মে সালমা (১২) এবং মো. ইলিয়াছের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)।

বুধবার বেলা দুইটার দিকে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগে মাদ্রাসাটিতে ৩০ জন শিশু ছিল।

ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। সন্ধ্যায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় আশ্রয়শিবিরের কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তিন শিশু-কিশোরীকে।

তারা হলো ৩ নম্বর ক্যাম্পের দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা বেগম (৯), একই ক্যাম্পের এফ-১ ব্লকের নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫) ও ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৭ ব্লকের বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২)। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উখিয়া কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, “দুর্ঘটনার পর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছিলাম এবং সেটিই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এ ঘটনায় চূড়ান্তভাবে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের সংখ্যাটি সংশোধন করে এ তথ্যই সঠিক হিসেবে গণ্য করতে হবে।”

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।

রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকেও পাহাড়ি ঢলের পানি মাতামুহুরী নদীর বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে চকরিয়া উপজেলা ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার শতাধিক গ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এতে দুই উপজেলার অন্তত দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছে, বুধবার বিকালে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১.৮০ মিটার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টিতে গেল চারদিন ধরে চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, হারবাং, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বমুবিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালী, চিরিঙ্গা ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বেশিরভাগ নিচু এলাকা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

অপরদিকে উপকূলীয় অঞ্চলের মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের কয়েকশো ঘরবাড়িতে ঢলের পানি ঢুকে গেছে।

বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা,যার ফলে অনেক এলাকা উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

টানা বৃষ্টিতে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানি বেড়ে যাবার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়ক, কাঁচা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং চিংড়িজোনের অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গিয়ে চকরিয়া পৌরশহরের হাসপাতাল পাড়া, থানা সেন্টার ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

এর প্রভাবে কক্সবাজারে বৃষ্টি হচ্ছে চার দিন ধরে। গতকালও সকালে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এই বৃষ্টি চলবে আরও দুই দিন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে-গত ২৪ ঘন্টায় সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাতের পরিমান ১০৩ মিলিমিটার।

বুধবার সকাল ৬ টা থেকে বৃগস্পতিবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমান ১২৫ মিলিমিটার। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে আরও ২ থেকে ৩ দিন অর্থাৎ ১১ তারিখ পর্যন্ত।

যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল বলেন, এবার আষাঢ়ের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত কোনো বৃষ্টি হয়নি। এখন অতি বৃষ্টির প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ।

এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়হীনতা রয়েছে মন্তব্য করে অধ্যাপক অলক পাল বলেন, বর্ষার শুরুতে দুর্যোগ মোকাবিলায় যে রকম প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, প্রশাসন সেভাবে অনেক সময় নেয় না। শুরু থেকে সমন্বয় থাকলে অনেক প্রাণহানি কমানো যেত।

তবে আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশে এমনিতেই বর্ষাকালে বৃষ্টি হয়। এ সময়ে দেশের উপকূলে কিংবা উপকূল ঘেঁষে কোনো লঘুচাপ সৃষ্টি হলে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এবার সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

এই বিভাগ এর আরো খবর

উখিয়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঈদগাঁওতে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে হেলপার নিহত

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর