
কক্সবাংলা ডটকম(২১ জুলাই) :: বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহূত হচ্ছে। তবে বিশ্বের অনেক স্থানে এখনো ইন্টারনেট সেবা পৌঁছেনি। গতানুগতিক পন্থায় এসব অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়াও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছতে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক ‘অ্যাথেনা’ নামে একটি ইন্টারনেট স্যাটেলাইট প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। খবর হিন্দুস্তান টাইমস ও সিনেট।
বিশ্বের যেসব এলাকায় এখন পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেসব এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট ফেসবুক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশন্স কমিশনের (এফসিসি) কাছে পয়েন্টভিউ টেক এলএলসি নামে একটি আবেদন জমা দিয়েছে। অ্যাথেনা প্রকল্পটি তাদের, ফেসবুক এটা নিশ্চিত করেছে।
ফেসবুকের এক মুখপাত্র বলেন, অ্যাথেনা প্রকল্প নিয়ে এ মুহূর্তে বলার মতো কিছু নেই। তবে পরবর্তী প্রজন্মের ব্রডব্যান্ড অবকাঠামোর ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, এর মাধ্যমে সেসব এলাকায়ও ব্রডব্যান্ড সেবার আওতায় নেয়া সম্ভব হবে।
ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছেন, এমন মানুষদের সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। তবে সেসব প্রকল্পে সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি। অ্যাকুইলা হলো ফেসবুকের একটি সৌরশক্তিচালিত ড্রোন প্রকল্প। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ৪০০ কোটি মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দেয়ার প্রকল্প গ্রহণ করেছিল ফেসবুক। তবে গত জুনে এ প্রকল্প থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় ফেসবুক।
প্রকল্পটির বিষয়ে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ বলেছিলেন, বিশ্বের যেসব মানুষ অনলাইন সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের মধ্যে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে ফেসবুক অ্যাকুইলা প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এছাড়া ২০১৭ সালে ক্ষুদ্র হেলিকপ্টার ড্রোন প্রকল্প থেকে সরে আসে ফেসবুক। জরুরি মুহূর্তে সাময়িকভাবে সেলুলার সেবার বিকল্প হিসেবে এ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল।
বিশ্বের যেসব অঞ্চলের মানুষ এখনো ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত, তাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে ফেসবুক ছাড়াও আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইলোন মাস্কের স্পেসএক্স ও সফটব্যাংক সমর্থিত ওয়ানওয়েব। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে স্পেসএক্স। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এটি করা হবে কিনা, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
এরই মধ্যে কক্ষপথে প্রোটোটাইপ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে স্পেসএক্স। চলতি বছরের শুরুর দিকে স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইলোন মাস্ক বলেছিলেন, প্রথমবারের মতো টিনটিন এঅ্যান্ডবি নামের দুটি স্টারলিংক ডেমো স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে। পৃথিবীতে থাকা স্টেশনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও চলছে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউব অব টেকনোলজির (এমআইটি) অ্যারোনটিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনকিস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্যারি কোহয় বলেন, ইন্টারনেট স্যাটেলাইট নির্মাণ খুবই ব্যয়বহুল।
ইন্টারনেট স্যাটেলাইট ছাড়াও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অন্য মাধ্যমেও ইন্টারনেট সেবা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে গুগলের প্রজেক্ট লুন। বেলুনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার প্রকল্প এটি। সার্চ জায়ান্টটি এরই মধ্যে এ প্রকল্পটি আফ্রিকার বেশকিছু অঞ্চলে সম্প্রসারণ করেছে এবং ভারতেও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফট হোয়াইট স্পেস প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।

Posted ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta