এর সঙ্গেই দ্রুত তদন্ত করে এই ঘটনায় জড়িতদের ধরার নির্দেশ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বার্তা, নির্বাচনকে বাধা দেওয়ার জন্য কোনও হিংসাত্মক কাজকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে এই ঘটনায় আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামি লিগ নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে।
যাঁরা নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া পদক্ষেপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
যদিও ওসমান হাদীর অনুগতদের এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি একেবারেই ভিন্ন। ওই ঘটনার পরেই একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সেখানে দেখা যাচ্ছে গুলিবিদ্ধ ছাত্রনেতাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর সঙ্গীদের বিএনপিকে কাঠগড়ায় তুলতে দেখা গিয়েছে।
এই গুলিচালনার পিছনে বিএনপি রয়েছে বলে অভিযোগ করতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।

অপরদিকে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে গুলির শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পর মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক দ্রুত পালিয়ে যান। এসময় আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এছাড়া পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রকাশ্যে আসা দুটি ছবি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গুলিকারী দুইজনের মধ্যে একজনের গায়ে কালো পাঞ্জাবি, কালো মাস্ক, গলায় চাদর এবং পরনে আকাশি রঙের প্যান্ট ছিল। আর অন্যজনের গায়ে কালো ব্লেজার, কালো মাস্ক, চোখে চশমা, পায়ে চামড়া রঙের জুতা ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, বাইক থেকে গুলি ছোড়া দুই ব্যক্তি মতিঝিল ওয়াপদা মাদরাসা (জামিআ দারুল উলুম মতিঝিল) এলাকায় হাদীর সঙ্গেই মাস্ক পরা অবস্থায় জনসংযোগে অংশ নিয়েছিলেন। হামলাকারী দুই বাইক আরোহীর পোশাকের সঙ্গে জনসংযোগে অংশ নেওয়া ওই দুই ব্যক্তির পোশাক মিলে যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফুটেজ সংগ্রহ করলেই আমরা বুঝতে পারব কতজন এবং কারা এ ঘটনায় অংশ নিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টি নম্বর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন হাদি। ১৪ নভেম্বর ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে হত্যা, তার বাড়িতে আগুনসহ তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ওসমান হাদি লিখেছিলেন, ‘গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে আওয়ামী লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টা বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে। যার সামারি হলো- আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।’