রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস : শোকের পরিবর্তে আমাদের জাতীয় সংকল্পের পুনরুচ্চারণ

🗓 রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

👁️ ১৩৮ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

👁️ ১৩৮ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ ডিসেম্বর) :: ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর শোক, বেদনা ও অবিচারের প্রতীক।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর, বিশেষত রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসেরা ঠাণ্ডা মাথায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট: বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য, অশিক্ষা ও অন্ধকারে নিমজ্জিত করা, যাতে স্বাধীনতা এলেও এই জাতি যেন আর কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।

যারা নিহত হয়েছিলেন, তারা ছিলেন এ জাতির বিবেক, আলোকবর্তিকা। শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, শিল্পী, সাহিত্যিক- তারা ছিলেন বাঙালি সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক মেরুদণ্ড।

তাদের হাতেই ছিল নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনার ভার।

অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব, মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, শহীদুল্লা কায়সার, ডা. ফজলে রাব্বি, ড. আলিম চৌধুরী, সিরাজুদ্দীন হোসেনের মতো অজস্র নক্ষত্রের পতন ছিল বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এ হত্যাকাণ্ড কেবল ব্যক্তিনিধন ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির সম্মিলিত স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।

এই দিনটি আমাদের কাছে আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারের দিন। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, যে সোনার বাংলার স্বপ্ন নিয়ে বুদ্ধিজীবীরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, আমরা কি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছি?

শিক্ষাকে কি আমরা সর্বজনীন ও জ্ঞানভিত্তিক করতে পেরেছি, নাকি এখনো সমাজে অশিক্ষা, কূপমণ্ডুকতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে আছে?

বুদ্ধিজীবীরা জাতিকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মুক্তচিন্তার পথে চালিত করতে চেয়েছিলেন। তাদের দেখানো পথ ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার।

আজকের দিনে আমাদের সর্বোচ্চ অঙ্গীকার হওয়া উচিত: তাদের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে একটি প্রগতিশীল, বিজ্ঞানমনস্ক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

নতুন প্রজন্মকে এই আত্মত্যাগের ইতিহাস জানাতে হবে, কারণ ইতিহাস বিস্মৃত হলে জাতি দিক হারায়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস তাই শোকের পরিবর্তে আমাদের জাতীয় সংকল্পের পুনরুচ্চারণ।

তাদের স্মৃতি চিরন্তন, আর তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক এবং সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়া।

আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তাদের স্বপ্নের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান হতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর