কক্সবাংলা ডটকম :: বর্তমান বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইক ব্যবহারকারীদের বড় দুশ্চিন্তা হয়ে উঠেছে মাইলেজ।
অনেকেই অভিযোগ করেন, আগের তুলনায় হঠাৎ করেই বাইক কম মাইলেজ দিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়- বরং দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু ভুল অভ্যাসই মূল কারণ।
বাইক চালানোর ধরনই মাইলেজ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হঠাৎ করে ব্রেক করা, অযথা ইঞ্জিন রেভ দেওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় ক্লাচ চেপে রাখা ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
এতে জ্বালানি বেশি খরচ হয়। বিপরীতে, সঠিক গিয়ার নির্বাচন ও মসৃণ গতিতে চালালে সহজেই ভালো মাইলেজ পাওয়া সম্ভব।
জ্বালানির মানও মাইলেজ কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ। নিম্নমানের পেট্রল ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ভেতরে কার্বন জমতে শুরু করে, যা ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
এর প্রভাব সরাসরি পড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর। তাই সব সময় নির্ভরযোগ্য পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া ইঞ্জিন অয়েল ও এয়ার ফিল্টারের রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন না করলে ইঞ্জিনে ঘর্ষণ বেড়ে যায়, ফলে জ্বালানি খরচ বাড়ে।
একইভাবে এয়ার ফিল্টার ময়লা হলে ইঞ্জিন পর্যাপ্ত বাতাস পায় না, যার ফলে মাইলেজ কমে যায়।
নিয়মিত সার্ভিসিংও বাইকের পারফরম্যান্স ধরে রাখার অন্যতম শর্ত। অনেক বাইক চালক ছোটখাটো সমস্যাকে গুরুত্ব না দিলেও সময়ের সঙ্গে সেগুলো বড় আকার ধারণ করে।
নিয়মিত সার্ভিসিং করলে ইঞ্জিন, ব্রেকসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ ভালো থাকে এবং মাইলেজ স্থিতিশীল থাকে।
বাইক বিশেষজ্ঞ রুপম ইসলাম বলেন, টায়ারের সঠিক বাতাসের চাপ মাইলেজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দুই সপ্তাহ অন্তর টায়ারের প্রেসার পরীক্ষা করা উচিত।
কম প্রেসার থাকলে বাইক চালাতে ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, যার ফলে জ্বালানি বেশি খরচ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়মিত মেনে চললেই বাইক থেকে ভালো মাইলেজ পাওয়া সম্ভব।













