মঙ্গলবার ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যমের আধুনিকায়নে খালেদা জিয়া

🗓 Thursday, 1 January 2026

👁️ ১০৫ বার দেখা হয়েছে

🗓 Thursday, 1 January 2026

👁️ ১০৫ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৩১ ডিসেম্বর) :: ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তখন দেশের গণমাধ্যম কাঠামো সীমিত প্রযুক্তিগত বিস্তার এবং বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল।

বিশেষ করে সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার রাষ্ট্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে জনজীবনে তথ্যপ্রবাহের পরিসর ছিল সংকুচিত।

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের পর বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।

পূর্ববর্তী সময়ের নানা বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় দৈনিক পত্রিকা, সাময়িকী ও জার্নালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

এ সময়ের আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য বাংলাদেশের দরজা খুলে দেয়া।

বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো বিবিসি ও সিএনএনের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশে তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের অনুমতি পায়।

এর ফলে দেশীয় দর্শকরা বিশ্বসংবাদ, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ এবং বৈশ্বিক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন।

এ সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী স্যাটেলাইট সম্প্রচারের বিস্তারের সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।

বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে অর্থাৎ ১৯৯২-৯৫ সালের মধ্যে একের পর এক আন্তর্জাতিক চ্যানেল দেশীয় গণমাধ্যমে প্রবেশ করতে থাকে।

এ সময়ে স্যাটেলাইট অনুষ্ঠানগুলোর প্রবেশ ও গ্রহণযোগ্যতার বিস্তার ঘটে, যা ভবিষ্যতে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন শিল্পের রূপায়ণের জন্য সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশ গড়ে তোলে।

একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি)’ কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়।

১৯৯৪ সালে বিটিভিতে বেসরকারি প্রযোজকদের তৈরি অনুষ্ঠান সম্প্রচারের অনুমতি দেয়া হয়, যা দীর্ঘদিনের একচেটিয়া অনুষ্ঠান উৎপাদন ব্যবস্থার অবসান ঘটায়।

এ সিদ্ধান্তের ফলে স্বাধীন প্রযোজক, পরিচালক ও লেখকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয় এবং বিনোদন, সংস্কৃতি ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্য আসে।

এ নীতিগত পরিবর্তনগুলোর প্রতিফলন ঘটেছে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের মাধ্যমে।

বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালে বিটিভির সম্প্রচার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ এবং পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য রাঙ্গামাটিতে রিলে ও ট্রান্সমিশন কেন্দ্র স্থাপন ও উন্নয়ন করা হয়।

এর ফলে রাজধানীকেন্দ্রিক সম্প্রচারের সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসে এবং দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে টেলিভিশন সেবা বৃদ্ধি পায়। আঞ্চলিক সম্প্রচারে খালেদা জিয়ার সরকারের এ প্রস্তুতি বিকেন্দ্রীকরণমুখী গণমাধ্যম নীতিরই অংশ ছিল।

এ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক টেলিভিশন কেন্দ্র ‘বিটিভি চট্টগ্রাম’ প্রতিষ্ঠা।

১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচার শুরু করে। এটি বাংলাদেশের আঞ্চলিক টেলিভিশন সম্প্রচারের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

যদিও বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা যাত্রা শুরু করে ১৯৯৭ সালে, অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদের পর, তবু এর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল তার শাসনামলেই।

গণমাধ্যম উদারীকরণ, স্যাটেলাইট সম্প্রচারের অনুমতি, বেসরকারি প্রযোজনার সুযোগ এবং প্রযুক্তিগত সম্প্রসারণ—এ সবকিছু মিলেই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে।

এর মধ্য দিয়ে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের উত্থান সম্ভব হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে এক গঠনমূলক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের অনুমতি, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বেসরকারি অংশগ্রহণ এবং সম্প্রচার অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে তার সরকার এমন এক ভিত্তি নির্মাণ করে, যার ওপর দাঁড়িয়েই পরবর্তী দশকে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ও গণমাধ্যমজগতে মৌলিক রূপান্তর ঘটে।

আজকের বহুমাত্রিক ও গতিশীল গণমাধ্যম পরিবেশের শেকড় খুঁজলে সেই সূত্র অনিবার্যভাবে গিয়ে মেলে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক কালপর্বে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর