কক্সবাংলা ডটকম(১০ ফেব্রুয়ারি) :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের অর্ধেকই নারী। এ নির্বাচনে নারী ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, যা মোট ভোটারের ৪৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।
দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীরা পিছিয়ে থাকলেও ব্যালটের শক্তিতে তারা পুরুষের সমান।
২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর নির্বাচন কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, সে অনুসারে মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৪ শতাংশ।
বিভিন্ন মহলের মূল্যায়নে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই তিন নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারীরা যে পক্ষে বেশি ভোট দিয়েছেন, সেই দলই বিজয়ী হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি ভোট দেয়ার প্রবণতাও বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে।
তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনেও নারী ভোটারদের ভোট জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
দেশের কৃষি, তৈরি পোশাক ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে জড়িত রয়েছেন ২ কোটি ৭৯ লাখের বেশি নারী। এদের বেশির ভাগই ভোটার।
এর পাশাপাশি প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থী মেয়ে কিংবা নারী, যাদের বড় অংশও এবার ভোট দেবেন। দেশের অর্থনীতিতে নারীদের সক্রিয় ও বিপুল অংশগ্রহণ রয়েছে।
কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনীতিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেতে পারছেন অনেক কম নারী। কিন্তু তাদের ভোট নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান তৈরি করে দেবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
দেশে জাতীয় ও স্থানীয় বেশ কয়েকটি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভোট দেয়ার প্রবণতা নিয়ে ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট পার্সপেকটিভস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৩ ও ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারীদের ভোট প্রদানের সম্ভাব্যতা পুরুষের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৪ এবং শূন্য দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি ছিল।
এছাড়া ২০০৮ ও ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনেও পুরুষের তুলনায় নারীদের ভোটদানের সম্ভাব্যতা ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ এবং ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
চারটি নির্বাচনে ভোট প্রদানের তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে গ্রামীণ নারীদের ভোট দেয়ার প্রবণতা পুরুষের চেয়ে বেশি। জাতীয় ও স্থানীয় উভয় নির্বাচনেই নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে যান। পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভোটদান ফলাফলে ব্যবধান তৈরি করেছিল।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৩। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৫ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৬। এ নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও তখনকার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গবেষণা উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের ওই নির্বাচনে নারী ভোটারদের প্রায় ৫৭ শতাংশ বিএনপিকে বেছে নেন। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল দলটি।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন দেশে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৪২২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার এবং নারী ভোটার ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার। নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল প্রায় ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
১৯৯৬ সালের ওই নির্বাচনে প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এ নির্বাচনে প্রায় ৩৫ শতাংশ নারী বিএনপিকে ভোট দেয় বলে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর দেশে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে নিবন্ধিত মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ জন এবং নারী ভোটার ছিল প্রায় ৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ জন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়ার হার ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। এ নির্বাচনে নারী ভোটাররা বিএনপিকে বিপুলভাবে সমর্থন দেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটের ব্যবধান ছিল বেশ কম।
বিএনপি পেয়েছিল ৪১ শতাংশ ভোট আর আওয়ামী লীগ পায় ৪০ শতাংশের সামান্য বেশি। কিন্তু নারী ভোটের হিসাব ছিল অন্য রকম। ওই নির্বাচনে প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী বিএনপিকে ভোট দেন। অর্থাৎ পুরুষ ভোটে ২০০১-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকলেও নারী ভোটারদের ভোট মূলত বিএনপিকে বিজয়ী করেছিল।
শুধু ভোটার হিসেবে নয়, সময়ের ব্যবধানে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোগ, পোশাক খাতে শ্রমিক হিসেবে কিংবা শিক্ষায় এখন নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ। দেশের কৃষি খাতে ১ কোটি ৮১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি নারী কর্মী রয়েছেন। এ খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, কৃষিতে নারীর শ্রম, অংশগ্রহণ, অঞ্চলভিত্তিক কৃষিতে নারীর আনুপাতিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলোর প্রতিশ্রুতিতে কৃষিতে নারীর অবদান যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম বলেন, ‘নারীদের ৫০ শতাংশই প্রত্যক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জিডিপিতে কৃষির যে অবদান তার ৩০ শতাংশই নারীদের শ্রমে আসে। নির্বাচনে দলগুলো যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলো দেখে মনে হয়েছে, তারা নারীর শ্রম নিয়ে কোনো গবেষণা করেনি। তারা নারীকে গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। কিন্তু নারীরা খেতে-খামারে কাজ করছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন।
উত্তরাঞ্চলে কিংবা সাঁওতালসহ বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায় গেলেই চোখে পড়বে নারীরা খেতে-খামারে কাজ করছেন। কিন্তু নারীদের এসব কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই। তাদের এ শ্রমের আইনি সুরক্ষা এবং জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এসব প্রত্যাশা থাকলেও কিন্তু সেসব ফুটে ওঠেনি।’
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কৃষি খাতের নারী শ্রমিকের প্রত্যাশা নিয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দির আলেয়া বিবির মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি কৃষিতে মাঠের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তার প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বড় কোনো আশা নেই। আমাগো নিয়ে কেউ ভাবে না। নির্বাচনে যে দলই আসুক, শ্রমিকের মজুরি বাড়লেই আমি সন্তুষ্ট।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশের ৩ কোটি ১৫ লাখ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে ১ কোটি ৮১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি নারী কৃষিতে যুক্ত রয়েছেন। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৪ দশমিক ৪২ শতাংশই কৃষিতে সম্পৃক্ত। আর এ শ্রমশক্তির ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং ১৮ দশমিক ৮২ শতাংশ পুরুষ।
দেশে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬৪ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি। যাদের মধ্যে নারী প্রায় ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৫ জন। এদের বেশির ভাগই ভোটার বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তারা নারীর প্রতি প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, নারীর ক্ষমতায়ন, সমানাধিকার, কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তাসহ নানা বিষয় গুরুত্ব দেবেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, ‘নারীদের ভোট নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি অনুধাবন করে দলগুলো নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
তবে নানা কর্মকাণ্ডে আবার এটাও ফুঠে উঠছে যে তারা আসলেই নারীদের অধিকার নিশ্চিতে কতটা সচেষ্ট। যেমন আমরা যদি সাইবার বুলিংয়ের কথাই বিবেচনা করি তাহলে এটি বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলই এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেসব নারী শিক্ষার্থী বা শিক্ষক আছেন তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন। আবার অনেকে আছেন যাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবারের বাবা-ভাই বা পুরুষতান্ত্রিক প্রভাব বেশি থাকে। নারীদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো প্রভাব ফেলবে।’
দেশের বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যাপীঠে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। যাদের বেশির ভাগ এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট প্রদান করবেন। নির্বাচনী প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তারাও গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু বিষয়কে সামনে রেখে ভোট দেবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়া জান্নাত বলেন, ‘নির্বাচনে ভোট দেয়া শুধু একটি নাগরিক দায়িত্ব নয়, এটি ভবিষ্যৎ গঠনের সরাসরি অংশগ্রহণ। একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নারী শিক্ষার্থী হিসেবে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ে গুরুত্ব দেব, তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা।
যে রাজনৈতিক দল নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বিচার নিশ্চিতকরণ এবং নারীর সামাজিক-রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাস্তব পদক্ষেপের কথা বলে আমি তাদের অগ্রাধিকার দেব।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো শিক্ষার মান ও স্বাধীনতা। তৃতীয় বিষয়টি হলো গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি চাই এমন রাষ্ট্র, যেখানে প্রশ্ন করা অপরাধ নয়; ভিন্নমত দমন নয়, বরং সম্মান করা হবে।’
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বড় অবদান রয়েছে জাতীয় অর্থনীতিতে। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান এখন ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ। এ খাতে ক্রমান্বয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে চলেছে।
জাতীয় এসএমই পরিসংখ্যানের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট ইকোনমিক ইউনিট রয়েছে ১১ দশমিক ৯ মিলিয়ন। এসএমই সেক্টরে মোট ৩ কোটি ৭ লাখ মানুষ জড়িত। যার মধ্যে ৫১ লাখ ২৮ হাজার নারী। এ উদ্যোক্তা ও কর্মী নারীরাও এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবেন।
২০২৫ সালে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে সেরা নারী উদ্যোক্তার পুরস্কার পান ‘সুতার কাব্য’র স্বত্বাধিকারী সিরাজুম মুনিরা।
একজন এসএমই উদ্যোক্তা হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তার প্রত্যাশা এবং ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোন দিকগুলো মূল্যায়ন করবেন সেই বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি একজন ম্যানুফ্যাকচারার, সেজন্য আমাকে পুরো একটা ফ্যাক্টরি চালাতে হয়, অনেক ওয়ার্কার আছে। এখন টিকে থাকাটা অনেক কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এসএমই খাতে লোন পাওয়ার শর্তাবলি অনেক কঠিন।
তারা মর্টগেজ চায়, গ্যারান্টার চায়, আমাদের হয়তো সম্পত্তি নেই কিংবা গ্যারান্টার অ্যারেঞ্জ করাটাও অনেক কঠিন হয়ে যায়। রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের এটাই প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিটা যেন স্থিতিশীল হয়।
আমরা যেন সুন্দর মতো বেচাবিক্রি করতে পারি, স্টাফদের বেতন দিতে পারি। যে প্রতিষ্ঠানটা এতদিন ধরে চালাচ্ছি, সেটা যেন সামনের দিনে হুমকির মধ্যে না পড়ে যায়। আমাদের যেন মনে না হয় যে আমরা আসলে উদ্যোক্তা হয়ে ভুল করেছি।’
দেশে নারী ভোটারদের আকর্ষণে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।
নারীদের ভোটে অংশগ্রহণ, তাদের সুযোগ-সুবিধা-অর্থনীতিতে অংশগ্রহণসহ নানা প্রতিশ্রুতি বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাদিয়া ফারজানা দিনা বলেন, ‘গ্রামীণ নারীদের চেয়ে শহরের নারীদের ভোট প্রদানের চিত্রটি ভিন্ন।
এবার মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে এনসিপি ও জামায়াতকে গ্রামীণ নারীরা শহুরে নারীদের চেয়ে বেশি সংখ্যায় ভোট প্রদান করবে। কিন্তু শহরের বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে লেখাপড়া জানা নারীরা যোগ্য প্রার্থী না পেলে শুধু গণভোটে হ্যাঁ দেবে। আর সংসদ প্রার্থী হিসেবে অপজিশনকে শক্তিশালী করতে ভোট দেবে।’
জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন বলে উল্লেখ করেন দলের রুকন এবং সদস্য (প্রকৌশলী উইং) মারদিয়া মমতাজ।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের নারীরা এগিয়ে ছিলেন। সুতরাং ভোটে আমরা কোনো দুশ্চিন্তা দেখছি না। বরং জামায়াতের নারীদের এমন অবস্থানটি দেখে হেরে যাওয়ার ভয়েই তাদের ওপর নানান জায়গায় হামলা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
দেশের রফতানি আয় ও জিডিপিতে বড় ভূমিকা রয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের। এ শিল্পে অন্তত ৩৭ লাখ কর্মী রয়েছে যাদের মধ্যে ২২ লাখ ২০ হাজার নারী। আসন্ন নির্বাচনে শ্রমিকদের বেতন, কর্মস্থলে সুযোগ-সুবিধাসহ নানা বিষয় তারা বিবেচনায় নেবেন বলে জানা গেছে। আবার অনেকে ভোট দেবেন পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে।
গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত শিল্পী (ছদ্মনাম) নির্বাচনে ভোটদানের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে বিবেচনা করছেন সে প্রসঙ্গে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি।
তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, গার্মেন্টস সেক্টরে কর্মসংস্থান এবং এটাকে কেন্দ্র করে তার পরিবার চলে, সেক্ষেত্রে তার কর্মস্থলে বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও বাসা ভাড়ার বিষয়গুলো নিয়ে যাদের প্রতিশ্রুতি ভালো তাকেই বেছে নেবেন। যদিও ভোটদানের ক্ষেত্রে তার পরিবারের মতামতকে প্রাধান্য দেবেন বলে জানান তিনি।
ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে নারী ভোটাররা বিএনপিকে বেছে নেবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহসম্পাদক শাম্মী আক্তার।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ ভালো হলে নারীরা ভোট দিতে যায়। যেহেতু গত কয়েকবার তারা ভোট দিতে পারেননি, আশা করছি এবার নারীরা ভোট দিতে যাবেন। আমাদের দলে নারী-পুরুষ সব কর্মীই কাজ করছেন। আমরা আশা করছি অতীতে যেমন নারী ভোটাররা আমাদের দলকে ভোট দিয়েছেন এবারো সে রকমটাই ঘটবে।’














