কক্সবাংলা ডটকম(১৪ ফেব্রুয়ারি) :: বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো ১২ ফেব্রুয়ারি।বড় ধরনের অনিয়ম, হানাহানি, রক্তপাত ছাড়াই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
দীর্ঘদিন থেকে দেশের মানুষ জাতীয় নির্বাচনে এমন গণতান্ত্রিক পরিবেশ আশা করছিল।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলও আমাদের নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।
সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, বিভিন্ন দেশ ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও বিদেশি প্রায় ২০০ সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস; প্রতিষ্ঠানটি ২৮ জন পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা কমনওয়েলথের ১৪ জন প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) ১৯ জন প্রতিনিধি আমাদের নির্বাচনে তীক্ষ নজর রেখেছেন।
এ ছাড়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইন্টারন্যশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ থেকে দুজন করে পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
কমনওয়েলথ গত বৃহস্পতিবার অর্থাৎ নির্বাচনের দিনই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এই নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করার দরজা খুলে দিয়েছে। সংস্থাটি ভোটগ্রহণের শুরু থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছে।
বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের শুরুর দিকে কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্ক দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সব ভয় দূর করে দিয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
প্রতিনিধিদলের প্রধান ইভার্স ইজাবস ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পর সংবাদমাধ্যমকে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি নিরপেক্ষভাবে কাজ করারও বিষয়টিও ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইআরআইয়ের পর্যবেক্ষক ডেডিভ ড্রেয়ার।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাবেক এই মার্কিন কংগ্রেসম্যান। কোনো সন্দেহ নেই, এ ধরনের ইতিবাচক মন্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
তবে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, শিগগিরই দেবে। আমরা আশা করি, তারাও বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় আমাদের সঙ্গী হবে।
একটি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যায় না।
আমরা সবাই জানি, বিগত স্বৈরাচারের আমলে ঠিক তা-ই হয়েছিল। গণতান্ত্রিক বিশ্ব আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। ছিল নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলও।
একের পর এক ডামি নির্বাচন দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের তামাশার পাত্র করে তোলা হয়েছিল। অনেক স্বস্তির ব্যাপার যে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই রাহুর দশা কেটে গেছে।
বাংলাদেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, এই যাত্রাপথে গোটা বিশ্ব আমাদের সঙ্গী হবে, বাড়িয়ে দেবে সহযোগিতার হাত।