কক্সবাংলা ডটকম :: তিনি ছিলেন ঝলসানো বিদ্যুতের মতো। ত্বরিত গতিতেই জিতে নিতেন অর্ধেক লড়াই। শুক্রবার স্তব্ধ হলো সেই গতি।
৮৬ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন অ্যাকশন স্টার (Hollywood Action Star) এবং মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী (martial arts grandmaster) চাক নরিস (Chuck Norris Dies At 86)।
তবে অভিনেতার মৃত্যুর কারণ নিয়ে মুখ খোলেনি তাঁর পরিবার।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যু হয়েছে চাক নরিসের।
এ দিন ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টে কিংবদন্তী অভিনেতার পরিবারের তরফে লেখা হয়েছে, ‘পর্দায় তিনি ছিলেন অজেয়।
আর আমাদের কাছে নিবেদিত প্রাণ স্বামী, স্নেহশীল পিতা।’ সঙ্গে বলেছেন, ‘এই মৃত্যু আমরা ব্যক্তিগতই রাখতে চাই।’
অভিনেতার মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত মার্শাল আর্ট প্রেমীরা।
তাঁদের চোখে ভাসছে ‘রিটার্ন অফ দ্য ড্রাগন’-এ ব্রুস লি-র সঙ্গে সেই আইকনিক লড়াইয়ের দৃশ্য। কপালের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সোনালি চুল।
তার নীচেই তীক্ষ্ণ দুই চোখ। খালি গা, পরনে সাদা পায়জামা। রোমান কলেজ়িয়ামের ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে তাঁকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছেন ব্রুস লি।
সেটা কিন্তু নিছকই অভিনয়। মার্শাল আর্টে তিনি ব্রুস লি-র থেকে কম যান না মোটেই।
১৯৪০ সালের ১০ মার্চ আমেরিকার ওকলাহোমায় জন্ম অভিনেতার। আসল নাম কার্লোস রে নরিস। ১২ বছর বয়সে সপরিবার চলে আসেন ক্যালিফোর্নিয়ায়।
স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ১৯৫৮ সালে যোগ দেন এয়ার ফোর্সে। আমেরিকান সেনার সঙ্গে তাঁকে পাঠানো হয় কোরিয়ায়।
সেখানেই প্রথম মার্শাল আর্টে হাতেখড়ি হয় তাঁর। শেখেন জুডো এবং ট্যাং সু দো (কোরিয়ান মার্শাল আর্ট)।
১৯৬২ সালে এয়ার ফোর্স থেকে ডি-চার্জ (এক ধরনের অবসর) হওয়ার পরে নর্থরপ এয়ারক্রাফ্টে ফাইল ক্লার্ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পুলিশে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর।
কিন্তু ভাগ্যদেবী অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন। পুলিশের চাকরিতে ওয়েটিং লিস্টে নাম ছিল। দেরি হচ্ছে দেখে খুলে ফেলেন মার্শাল আর্ট স্কুল। ব্যস, আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
১৯৬৮ সালে The Wrecking Crew ছবির হাত ধরে অভিনয় জগতে পা রাখেন নরিস। Missing in Action, The Delta Force, Sidekicks-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন।
মার্শাল আর্টের সূত্রেই ব্রুস লি-র সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়। তার পরে ১৯৭২-এ ‘Return of the Dragon’-এর সেই ঐতিহাসিক লড়াই। বাকিটা ইতিহাস।
চাকের গুণমুগ্ধ ছিলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। একসঙ্গে স্কাইডাইভিং করতেন তাঁরা। ‘টেক্সাস রেঞ্জার’ খেতাবও পেয়েছেন নরিস। গত ১০ মার্চ ছিল তাঁর জন্মদিন।
চনমনে মেজাজে বক্সিং প্র্যাকটিসের একটি ভিডিয়ো ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত সংলাপ, ‘আমার বয়স বাড়ে না, জীবনের প্রতিটা ধাপে আরও শক্তিশালী হই।’














