কক্সবাংলা ডটকম :: আগামী ২৬ মার্চ শুরু হচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সমর্থকদের হতাশ করে জানিয়েছে, দর্শক ছাড়াই আয়োজিত হবে এবারের পিএসএল।
যার নেপথ্যে পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সংকট।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে এবার পিএসএল খেলতে যাওয়া একের পর এক বিদেশি ক্রিকেটার পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL 2026) ছেড়ে চলে আসছেন আইপিএলে। ক্রমশ জৌলুস কমছে পিএসএলের।
কিন্তু এতেও রক্ষা নেই। এবার বিদেশি ক্রিকেটাররা আরও বড় দাবি নিয়ে হাজির! যা সামলাতে হিমশিম অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি মুখে যতই ‘প্রতিশোধে’র হুঙ্কার দিয়ে রাখুন না কেন, বাস্তবে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে পাক বোর্ড।
২৬ মার্চ থেকে শুরু হবে পিএসএল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানে তেল সংকটের ফলে এমনিতেই পাক লিগে একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে।
আবার অনেক বিদেশি প্লেয়ার আইপিএলের ডাক পেয়ে ভারতে চলে আসছেন।
জিম্বাবোয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি কেকেআরে সই করেছেন। শ্রীলঙ্কার দাসুন শনাকাকে সই করাল রাজস্থান রয়্যালস। স্যাম কারানের জায়গায় তাঁকে নেওয়া হয়েছে। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার গুদাকেশ মোতিও পিএসএল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এবার জানা গিয়েছে, বহু ক্রিকেটার শেষ মুহূর্তে বেতন বাড়ানোর দাবি করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যেও যুদ্ধ অব্যাহত।
এই পরিস্থিতিতে পাক মুলুকে গিয়ে খেলা যথেষ্ট ঝুঁকির। তাই বেতন বাড়ানোর দাবি করছেন অনেকেই।
যেখানে নকভি চুক্তিভঙ্গের জন্য হুমকি দিচ্ছেন, সেখানে বিদেশিদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে বেশ চাপে পাক বোর্ড। তাদের এক সূত্র বলছেন, “পিসিবি’র এখন একমাত্র লক্ষ্য ঠিক সময়ে পিএসএল শেষ করা। তাই যাঁরা লিগ ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
শাস্তি বলতে বড়জোর তাঁদের এক-দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। কিন্তু সেই শাস্তি দিলে ভবিষ্যতে আর কোনও তারকা পাকিস্তানে খেলতে আসবেন কি না সন্দেহ। কারণ পাকিস্তানের বদলে আইপিএল থেকে ডাক এলে অধিকাংশ ক্রিকেটারই চুক্তি ভাঙবেন।
বিদেশি ক্রিকেটারদের হুমকি দিল পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠন
এদিকে জঙ্গিগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার বিদেশি প্লেয়ারদের হুমকি দিয়েছেন, পাকিস্তানে খেলতে এলেই জীবনের ঝুঁকি থাকবে। তবে এর মধ্যেই স্টিভ স্মিথ অস্ট্রেলিয়ায় খেলার জন্য পা রেখেছেন।
এদিকে পিএসএল খেলতে যাওয়া বিদেশি ক্রিকেটারদের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।
পাকিস্তানের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার প্রকাশ্যে এক বিবৃতি দিয়ে বিদেশি ক্রিকেটারদের পিএসএলে খেলার ক্ষেত্রে সতর্ক বার্তা দিয়েছে।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, যদি বিদেশি ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আসে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।
সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরারের একজন কমান্ডার তাদের বিবৃতির বিষয়টি দ্য সানডে গার্ডিয়ানকে নিশ্চিত করেছেন।
এই পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে ক্রিকেটারদের হুমকির ব্যাপারে জামাত-উল-আহরারের কমান্ডার বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব ক্রিকেট বোর্ডকে তাদের খেলোয়াড়দের পাকিস্তানে না পাঠানোর জন্য পরামর্শ দিতে চাই। যদি তাদের কিছু ঘটে, তাহলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। আমরা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়ে দিয়েছি।’
যদি খেলোয়াড়রা এই সতর্কতা উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ করে, তখন কী হবে তা জানতে চাইলে কমান্ডার বলেন, ‘আমাদের পক্ষে যা করা সম্ভব, তাই করব। কিন্তু আমরা ম্যাচগুলো হতে দেব না।’
ম্যাচ হতে দেব না এর অর্থ কি পিএসএল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা? এর জবাবে দ্য সানডে গার্ডিয়ানকে জামাত-উল-আহরারের কমান্ডার বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে ম্যাচগুলো না হয় এবং খেলোয়াড়রা যাতে মাঠে নামতে না পারে।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনো এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তবে গতকাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আচমকা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে স্টেডিয়ামে দর্শক ছাড়াই পিএসএল মাঠে গড়াবে। মূলত দেশের মানুষের জ্বালানির খরচ বাঁচাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।
তবে পিসিবির ঘোষণার একদিন পর সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এমন হুমকি দিয়ে বিবৃতি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে এবারের পিএসএলে ছয়জন ক্রিকেটার ডাক পেয়েছেন। আজ পিএসএল খেলার জন্য পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার- মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন ও নাহিদ রানা। রিশাদ হোসেন ও তানজিদ তামিম পরে যাওয়ার কথা রয়েছে।














