শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা : ফিরতে হতে পারে বহু বাংলাদেশীকে

🗓 শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ১৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ১৯ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৬ মার্চ) :: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়ায় বর্তমানে শ্রমশক্তির ১৪ শতাংশের বেশি বিদেশী কর্মী রয়েছে।

দেশটির সরকার এ হার কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে।

মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় নাগরিকদের চাকরির বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো। আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অন্য বিদেশীদের সঙ্গে বহু বাংলাদেশী শ্রমিককেও মালয়েশিয়া ছাড়তে হবে।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে সাধারণ শ্রমিক ও কর্মজীবী পাঠানোর পথও রুদ্ধ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে আট লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন।

এর বাইরে অবৈধভাবে আরো কয়েক লাখ বাংলাদেশী সেখানে বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশী কর্মীদের একটি বড় অংশ সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পেশাজীবী এমপ্লয়মেন্ট পাস ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে কর্মরত।

২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক ভিসা বন্ধ রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার এ ভিসা পুনরায় চালু করতে নানা উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে মালয়েশিয়া সরকারের নতুন নীতি দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশী শ্রমিক ও পেশাজীবীদের জন্য অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মী নিয়োগে নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে আগামী ১ জুন থেকে। বিদেশী কর্মীদের ভিসা পেতে ন্যূনতম বেতনসীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানকাল তিনটি ক্যাটাগরি ভেদে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানো এবং বিদেশী কর্মী কমাতে মূলত এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।

এর ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী শর্ত পূরণ না হলে নির্ধারিত সময় শেষে তাদের ফিরতে হবে নিজ দেশে বা খুঁজে নিতে হবে বিকল্প গন্তব্য।

নতুন নিয়মে এমপ্লয়মেন্ট পাসের তিনটি ক্যাটাগরিতে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতনসীমা যথাক্রমে ক্যাটাগরি-১-এর ক্ষেত্রে ১০ হাজার রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করা হয়েছে।

ক্যাটাগরি-২-এর বেতন ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত। এ দুই ক্যাটাগরির ভিসার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর।

এছাড়া ক্যাটাগরি-৩-এর ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর।

প্রবাসীদের অবস্থানকাল সীমিত করার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের প্রবাসীর মেয়াদ শেষে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকারের ২০২৫ সালে প্রকাশিত জাতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকার সতর্ক করে বলেছে, স্বল্পদক্ষ বিদেশী শ্রমিকের ওপর ক্রমাগত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতির গতি শ্লথ করে দিয়েছে।

১৩তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়, এ পরিস্থিতি শ্রমবাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে—কম দক্ষ ও কম মজুরির কাজের আধিক্য, উৎপাদনশীলতার ধীর প্রবৃদ্ধিই এর ফল।

২০২৪ সালের হিসাবে দেশটির মোট শ্রমশক্তির ১৪ দশমিক ১ শতাংশই বিদেশী।

জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চ বেতনভোগী প্রবাসীদের ক্ষেত্রে কঠোর শর্তারোপ করা হবে, যার লক্ষ্য হলো টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় প্রতিভা বিকাশ জোরদার।

স্থানীয় নিয়োগ বাড়াতে তাই ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট শ্রমশক্তিতে বিদেশীদের ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের তথ্যমতে, গত বছর জুন শেষে কাজের অনুমতি থাকা বাংলাদেশীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩ হাজার ৩৩২।

তবে মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশীরা জানান, এ সংখ্যা বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ। অনেক বাংলাদেশীই স্টুডেন্ট ভিসায় দেশটিতে গিয়ে আর ফেরেননি।

কয়েকজন বাংলাদেশীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাধ্য হলে তারা অন্য দেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ড. মো. ইমতিয়াজ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা যারা দেশটিতে পেশাজীবী রয়েছি সবার মধ্যে উদ্বিগ্নতা রয়েছে।

আমার সহকর্মীরাও চিন্তিত। দীর্ঘমেয়াদে এখানে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলাম। সত্যি বলতে আজীবন থাকারই প্ল্যান ছিল কিন্তু এখন আর সেটা হচ্ছে না। বিকল্প ভাবতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মালয়েশিয়া সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে এখনই হয়তো সবকিছু বোঝা সম্ভব না যে কতটা প্রভাব পড়বে। কারণ এইচআর থেকে আমাদের কিছু জানায়নি।

তবে সরাসরি সব সেক্টরে প্রভাব না পড়লেও অনেকেরই চাকরি থাকবে না। সেটা হয়তো ধীরে ধীরে হবে। এখানে স্থানীয় ট্যালেন্ট রিপ্লেস হবে আর বিদেশীদের দেশে ফিরতে হবে।’

বড় প্রতিষ্ঠান ছাড়া মালয়েশিয়া সরকারের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে জানান ড. ইমতিয়াজ হোসেন।

তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের শিল্প বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমই) বাধ্য হয়েই বিদেশীদের বাদ দিয়ে স্থানীয়দের নিয়োগ দেবে বলে মনে করেন তিনি।

মালয়েশিয়ার এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘অনেক বড় প্রভাব পড়বে নতুন অভিবাসন নীতিতে।

খুব বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন না হলে নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশীদের আর কাজে রাখবে না। তারা তুলনামূলক কম বেতনে স্থানীয়দের নিয়োগ দেবে।

কারণ এখানে চাকরির সংকট রয়েছে। যদিও তাদের বেতন চাহিদা অনেক বেশি, যেটি নিয়ে নিয়োগকর্তারা সন্তুষ্ট নয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেমিট্যান্স আহরণের দিক থেকে মালয়েশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশটিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীরা ২০৩ কোটি ১৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়া থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশের তালিকায় মালয়েশিয়ার নাম পঞ্চম স্থানে ছিল।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় যেসব প্রফেশনাল রয়েছেন তাদের কাজের দক্ষতা খুব ভালো না হলে দেশে ফেরত আসতে হতে পারে।

কারণ এর থেকে কম বেতনে স্থানীয়দের নিয়োগ দেয়ার কথা ভাববে নিয়োগকর্তারা। তখন বাংলাদেশীদের কাজের জায়গাটা কমে আসবে।

প্রফেশনাল ক্যাটাগরিতে মালয়েশিয়ার বাইরে অন্য দেশ খুঁজতে এখনই সরকারকে একটা কৌশল নিতে হবে।’

এই বিভাগ এর আরো খবর

বাতিল হচ্ছে সদ্য সমাপ্ত গণভোট!

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর