শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলকে হারিয়ে দিল ফ্রান্স : বিশ্বকাপ রেসে টিকে থাকল ইতালি(ভিডিও সহ)

🗓 শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: খাতায়-কলমে প্রীতি ম্যাচ। সেটা মাঠের লড়াই দেখে বোঝার উপায় নেই। লাল কার্ড, স্নায়ুচাপ, বিশ্বকাপের আগে বড় পরীক্ষাসব মিলিয়ে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর।

যা জিতে নিল ফ্রান্স (France Beat Brazil)। হারাল ব্রাজিলকে।

চোট-আঘাতের দুঃস্বপ্ন ও সাম্প্রতিক নাটককে পিছনে ফেলে নায়ক সেই কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)।

নিখুঁত ফিনিশ, ঠান্ডা মাথা আর তুখোড় নেতৃত্বের ঝলক একসঙ্গে (France vs Brazil)। ১০ জনে খেলেও ভিনিসিয়া-কাসেমিরোদের পরাস্ত করল ফরাসি বাহিনী। ফলাফল ২-১।

কেমন খেললেন এমবাপে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিলেট স্টেডিয়ামে (Gillette Stadium) শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। যার ফল আসে প্রথমার্ধে।

উসমান দেম্বেলের (Ousmane Dembele) পাস ধরে ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে যান এমবাপে (Kylian Mbappe)। তারপর গোলকিপার এডারসনকে (Ederson) পরাস্ত করে চিপ শটে গোল।

যা শুধু দলকে ম্যাচে এগিয়ে দেয়নি, ফরাসি স্ট্রাইকারকে ইতিহাসের দিকেও ঠেলে দিল। জাতীয় দলের হয়ে ৫৬ গোল।

আর একবার লক্ষ্যভেদ করলেই ছুঁয়ে ফেলবেন অলিভিয়ের জিরুর (Olivier Giroud) ৫৭ গোলের রেকর্ড।

লাল কার্ডেও অদম্য ফ্রান্স

প্রথমার্ধের দাপট ধাক্কা খায় দ্বিতীয়ার্ধ, একেবারে শুরুর দিকে। ডিফেন্ডার দয়ো উপামেকানো (Dayot Upamecano) লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

ফলে ১০ জনে নেমে আসে ফ্রান্স (France)। খেলা এখানেই ঘুরে যেতে পারত। কিন্তু কার্যত হল ঠিক উল্টো। রক্ষণ মজবুত রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালাল ফরাসিরা। যার সুবাদে ৬৫ মিনিটে এল দ্বিতীয় গোল।

করলেন হুগো একিটিকে (Hugo Ekitike)। মাইকেল অলিসের (Michael Olise) পাস থেকে সহজ ফিনিশে ব্যবধান বাড়ান তিনি।

শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ১০ জনে খেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি ফ্রান্স। সেটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় বার্তা।

ব্রাজিলের পালটা লড়াই, কিন্তু যথেষ্ট নয়

খেলার শেষদিকে কামব্যাকের মরিয়া চেষ্টা চালায় ব্রাজিল। ৭৮ মিনিটে গ্লেইসন ব্রেমার (Gleison Bremer) গোল করে কিছুটা হলেও আশা জাগান।

তবে ততক্ষণে যা দেরি হয়ে গিয়েছে। ব্রাজিলের আক্রমণে ধার থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি। কোচ কার্লো অ্যান্সেলোত্তি (Carlo Ancelotti) ম্যাচ হেরে নিরাশ।

যদিও আত্মবিশ্লেষণের সুরে বললেন, ‘হারলে খুশি হওয়া যায় না। তবে দল লড়েছে। কোথায় ভুল হয়েছে, সেটাও বোঝা গেল।

এই ম্যাচে আলিসন বেকার (Alisson Becker), রদ্রিগো (Rodrygo) সহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার অনুপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু তাই বলে ফ্রান্সের জয়কে স্বীকৃতি না জানানো অন্যায়। যোগ্য দল হিসেবেই শেষ হাসি হেসেছে দিদিয়ের দেশঁ-র ছেলেরা।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার রেসে টিকে থাকল ইতালি, স্বপ্নভঙ্গ ইউক্রেনের

শত দুশ্চিন্তাও যে শেষমেশ বিশ্বকাপে খেলার দৌড় থেকে ছিটকে দিল না, তার প্রধান কৃতিত্ব সান্দ্রো তোনালি ও মোয়েস কেন-এর৷ দুই তারকার গোলে টেনেটুনে নর্দান আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে প্লে-অফের ফাইনালে ইতালি।

ছন্নছাড়া পাসিং। মিডফিল্ডে উদ্যম নেই৷ নেই রক্ষণে সেই ট্রেডমার্ক আত্মবিশ্বাস৷ স্ট্রাইকারদের হাল আরও তথৈবচ।

প্রতিপক্ষ দুর্বল নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বদলে অন্য কোনও দল হলে ফলাফল কী দাঁড়াতে পারত—ভেবেই শিউরে উঠছেন আজুরি সমর্থকদের বড় অংশ।

কিন্তু শত দুশ্চিন্তাও যে শেষমেশ বিশ্বকাপে খেলার দৌড় থেকে ছিটকে দিল না, তার প্রধান কৃতিত্ব সান্দ্রো তোনালি (Sandro Tonali) ও মোয়েস কেন (Moise Kean)-এর৷ দুই তারকার গোলে টেনেটুনে নর্দান আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে প্লে-অফের ফাইনালে ইতালি (Italy)।

এবার সামনে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (Bosnia and Herzegovina)। যারা দুর্দান্ত কামব্যাকের সুবাদে গতকাল রাতে ফেভারিট ওয়েলসকে হারিয়ে টিকিট পাকা করেছে।

জয়ের স্বস্তি, কিন্তু প্রশ্ন রয়েই গেল

বার্গামোর গেভিস স্টেডিয়ামে (Gewiss Stadium) ম্যাচের প্রথমার্ধে ইতালির খেলা ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। বল দখল থাকলেও আক্রমণে ধার ছিল না। গোলের সুযোগ তৈরি করতেও বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল আজুরিরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘোরান সান্দ্রো তোনালি (Sandro Tonali)। দূর থেকে ভলি শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। সেই গোলেই চাপ কিছুটা কমে। এরপর তোনালির পাস থেকেই ব্যবধান বাড়ান মোয়েস কেন (Moise Kean)।

ম্যাচের পর কোচ জেনারো গাত্তুসো (Gennaro Gattuso) পরিষ্কার বলেন, ‘গোল পাওয়ার পর ছেলেরা স্বস্তি পেয়েছে। কিন্তু আমাদের আরও ভাল খেলতে হবে। জেতা ছাড়া কোনও রাস্তা নেই।’

পরিসংখ্যান বলছে, ইতালি সাতটি শট টার্গেটে রেখেছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড একটিও নয়। তবুও খেলার মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকেই।

ইউক্রেনের স্বপ্নভঙ্গ, সুইডেন–পোল্যান্ড এগল

অন্য ম্যাচে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইউক্রেন (Ukraine)। সুইডেনের (Sweden) কাছে ৩-১ হেরে বিদায়। নায়ক ভিক্টর গিয়োকারেস (Viktor Gyokeres)। হ্যাটট্রিক করে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন।

পোল্যান্ডও (Poland) লড়াই করে জয় তুলে নেয়। আলবেনিয়ার (Albania) বিরুদ্ধে ২-১ জিতে ফাইনালে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি (Robert Lewandowski)।

ডেনমার্ক (Denmark), কোসোভো (Kosovo) ও চেকিয়া (Czechia)-ও নিজেদের ম্যাচ জিতে এগিয়েছে। প্লে-অফের লড়াই এখন চরমে।

তুরস্কের জয়, সামনে কঠিন ফাইনাল

তুরস্ক (Türkiye) ১-০ গোলে হারিয়েছে রোমানিয়াকে (Romania)। গোল করেন ফেরদি কাদিওগ্লু (Ferdi Kadioglu), অ্যাসিস্ট আরদা গুলারের (Arda Guler)।

এই জয়ে বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্ন জিইয়ে রাখল তুরস্ক। ২০০২ সালের পর আবার বড় মঞ্চে ফেরার লক্ষ্য।

এদিকে ইতালির সামনে এখন শেষ পরীক্ষা। বসনিয়ার বিরুদ্ধে জিতলেই উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে জায়গা পাকা। না হলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করার লজ্জা।

সব মিলিয়ে, লড়াই এখন একেবারে ‘ডু অর ডাই’। এবার দেখার—আজুরিরা ঘুরে দাঁড়ায়, না ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়।

এই বিভাগ এর আরো খবর

বাতিল হচ্ছে সদ্য সমাপ্ত গণভোট!

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর