নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এক বিরল ও ব্যতিক্রমী মেজবান আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সচরাচর মানুষের মৃত্যুর পর কুলখানি বা মেজবানের আয়োজন করা হলেও, এবার জীবদ্দশাতেই নিজের মেজবান দেখে গেলেন শতবর্ষী প্রবীণ ব্যক্তি মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ (প্রকাশ নূর আয়েশার আব্বা)।
উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ফুড়ার পাড়ার বাসিন্দা এই প্রবীণ ব্যক্তির ইচ্ছা পূরণ করতে মেজবানের আয়োজন করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সিকদার।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শতবর্ষী জহিরুল্লাহর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তার মৃত্যুর পর যেন বড় করে একটি মেজবানের আয়োজন করা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে উত্তর ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সিকদার তাকে কথা দেন যে, মৃত্যুর পর নয়, বরং তিনি জীবিত থাকা অবস্থাতেই এই আয়োজন করা হবে-যাতে তিনি নিজ চোখে মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা দেখে যেতে পারেন।
চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানে প্রায় ৭ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী,
কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুল হক, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সমর্থকদের অনেকেই চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে মানবিক ও ব্যতিক্রমী হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, একজন মানুষের শেষ ইচ্ছা তার জীবদ্দশায় পূরণ করা সম্মানের বিষয়।
অন্যদিকে, প্রথাগত নিয়মের বাইরে এমন আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে সমাজের একাংশের মধ্যে সমালোচনা ও ভিন্নমতও দেখা গেছে।
আয়োজক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সিকদার তার ফেসবুক পোস্টে জানান,“আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম, তিনি জীবিত থাকা অবস্থায়ই এই আয়োজন করব।
আলহামদুলিল্লাহ, তার সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে এবং তার মুখে হাসি দেখতে পেরে আমি আনন্দিত।













