মোসলেহ উদ্দিন,উখিয়া :: বাংলাদেশের কৃষি খাত নতুন করে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি অস্থিরতা, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি, ডিজেল সরবরাহ সংকট এবং সার উৎপাদনে বিঘ্ন, সব মিলিয়ে দেশের কৃষি সম্ভার ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলের কৃষকেরা এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।
উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ডিজেলের তীব্র সংকট। কৃষকদের অভিযোগ,
খুচরা বাজারে ডিজেল মিলছে না। অনেক বিক্রেতা প্রতিষ্টান অতিরিক্ত মুনাফা নিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
লিটারপ্রতি ২০–৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে তেল। সেচ পাম্প চালাতে ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বোরো এ মৌসুমে সেচই কৃষির প্রাণ।
অথচ ডিজেল সার দুটোই গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। এখন ধানের শীষ বের হওয়ার মোক্ষম সময়। এই সময়টাতে জমিতে নিয়মিত পানি না থাকলে ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সেচ বন্ধ করলে পুরো মৌসুমের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে, কিন্তু বাড়তি দামে ডিজেল কিনে টিকে থাকাও কঠিন।
সেচ ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। উখিয়াসহ আশপাশের কৃষি এলাকায়, অধিকাংশ জমি ডিজেলচালিত সেচ পাম্প নির্ভর শুকনো মৌসুমে বোরো ধান, সবজি ও অন্যান্য চাষাবাদ সম্পূর্ণ সেচনির্ভর।
ডিজেলের দাম বাড়ায় প্রতি বিঘায় সেচ খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্র বলছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হলেও জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে সেই উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হবে।
ডিজেল সংকটের পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে সার উৎপাদন সংকট। চট্টগ্রামের ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, কাঁচামাল অ্যামোনিয়ার মজুত প্রায় শেষ। অল্পদিনের বেশি উৎপাদন চালানো সম্ভব নাও হতে পারে।
অন্যান্য সার কারখানাও গ্যাস ও কাঁচামাল সংকটে চাপের মুখে। যদি এতে সার উৎপাদন ব্যাহত হয়, তাহলে সামনে আমন মৌসুমসহ পুরো কৃষি চক্র বিপর্যস্ত হতে পারে।
এদিকে বৃষ্টি নেই, সেচ খরচ বাড়ছে, ঝুঁকিও বাড়ছে।
এ বছর মৌসুম অনুযায়ী বৃষ্টি কম হওয়ায় কৃষকেরা সম্পূর্ণ সেচের ওপর নির্ভরশীল।
ফলে ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কমে যাবে, সার সংকটে ফলন কমে যাবে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়বে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিখাতে এখনই ব্যবস্থা না নিলে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধাক্কা আসতে পারে।
এখনই সময়, জরুরি ভিত্তিতে কৃষিখাতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, ডিলার পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং, কৃষকদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি ব্যবস্থা,
বিকল্প সৌরচালিত সেচ সম্প্রসারণ এবং সার কারখানায় দ্রুত কাঁচামাল সরবরাহ।
ডিজেল ও সার, এই দুই শক্তি ছাড়া আধুনিক কৃষি অচল। যদি জ্বালানি ও সার সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে শুধু উখিয়া নয়, সারাদেশের কৃষি উৎপাদনই বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের কৃষি সম্ভার ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।














