নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মইয়াদিয়া-টেকপাড়া গ্রামীণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় পড়ে থাকায় তিন গ্রামের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বর্ষা মৌসুম এলেই হাঁটুসমান কাঁদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি পেকুয়া বাজার-ছিরাদিয়া সড়কের মইয়াদিয়া তারেকের বাড়ি থেকে টেকপাড়া আমির হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত।
প্রতিদিন বিলহাসুরা রব্বত আলী সওদাগর পাড়া, মইয়াদিয়া, গোঁয়াখালী টেকপাড়াসহ একাধিক গ্রামের শত শত মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন।
কিন্তু সড়কটি কাঁচা থাকায় গ্রীষ্মে কোনোভাবে চলাচল সম্ভব হলেও বর্ষায় তা একেবারে দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে ওঠে।
পূর্ব বিলহাসুরা গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ ফকির মুহাম্মদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা দিয়েই চলাচল করছি।
বর্ষায় হাঁটুসমান কাঁদা মাড়িয়ে চলতে হয়। এখনো লুঙ্গি তুলে রাস্তা পার হতে হয়। জীবনে এই রাস্তা ইট বিছানো দেখব কিনা জানি না।
মগকাটা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জামাল হোসছাইন আনছারী বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক।
প্রতিদিন নামাজ পড়াতে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করি। বর্ষায় দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় সব জায়গায় উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকায় এখনো কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
যুগ যুগ ধরে একই অবস্থায় আছি। এই সড়ক পাকাকরণ এখন সময়ের দাবি।
চায়ের দোকান ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, তিন গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা এই রাস্তা। বর্ষায় রোগী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম কষ্ট হয়।
সড়কে ইট বসানো হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটা কমে যাবে। তবে স্বপ্নের ইট কখন দেখব জানিনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় আংশিক মাটি দিয়ে রাস্তার উন্নয়ন করা হলেও তা টেকসই হয়নি।
প্রায় দুই যুগ আগে আংশিক অংশে কিছু কাজ করা হলেও পুরো সড়কটি এখনো কাঁচাই রয়ে গেছে।
ফলে এলাকাবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন ইট বিছানো বা পাকাকরণ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ মানিক বলেন, এই সড়কের কাজ আমি শুরু করেছি। আগে কোনো রাস্তার অস্তিত্বই ছিল না।
খুব শিগগিরই রাস্তায় ইট বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে এলাকা পৌরসভার আওতায় এসেছে, তাই আশা করছি দ্রুত উন্নয়ন হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে মইয়াদিয়া-টেকপাড়া সড়কটি পাকাকরণ করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।














