নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: সমুদ্রে মাছ ধরা ও আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা এলাকায় থামছে না অবৈধ মাছ পাচার।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার মগনামা জেটি ঘাট কেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতিরাতে ট্রাক ও পিকআপভর্তি মাছ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সমুদ্রে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকার পরও গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত মগনামা জেটি ঘাটে মাছ খালাস করা হচ্ছে। পরে এসব মাছ পিকআপ ও ছোট ট্রাকে করে বাঁশখালী, চট্টগ্রাম শহরসহ বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
সিন্ডিকেটটি প্রতিটি মাছবাহী গাড়ি থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া পাচারকারীরা প্রশাসনের নজর এড়াতে বিশেষ “স্কাউট টিম” ব্যবহার করছে।
এসব স্কাউট সদস্যরা আগে থেকেই বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপদ সংকেত দিলে মাছবাহী গাড়িগুলো চলাচল করে।
বিশেষ করে পেকুয়া-বরইতলী সড়ক, পেকুয়া-বাঁশখালী সড়ক এবং বারবাকিয়ার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে মাছ পাচার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২টি মাছভর্তি গাড়ি প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়েই চলাচল করছে।
কিন্তু রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
একাধিক সচেতন নাগরিক অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে “ম্যানেজ” করেই সিন্ডিকেটটি নির্বিঘ্নে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এত বড় আকারে মাছ খালাস ও পাচার চললেও মৎস্য বিভাগের কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে জনমনে নানা সন্দেহ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এভাবে মাছ আহরণ ও পাচার চলতে থাকলে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়বে।
পাশাপাশি আইনের শাসন নিয়েও জনমনে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। তারা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।













