বুধবার ১০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

H-1B ভিসায় ১ লক্ষ ডলার ফি ‘বেআইনি’, রায় আমেরিকান আদালতের

🗓 মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

👁️ ২১ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

👁️ ২১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ফের ধাক্কা খেলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ট্যারিফকে আগেই ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য H-1B ভিসায় ১ লক্ষ ডলারের ফি-ও বাতিল করে দিল বস্টনের জেলা আদালত।

রায় ঘোষণার সময়ে বিচারক জজ লিও সোরোকিন বলেন, ‘এই বাড়তি ফি আদতে একটা ট্যাক্স।

আমেরিকান কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে এমন ট্যাক্স আরোপের অনুমতি দেয়নি। তাই বাড়তি ভিসা ফি বাতিল করা হলো।’

আমেরিকার সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে কর্মী আনতে H-1B ভিসা ব্যবহার করে। এর ফি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার।

কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে আচমকাই তা বাড়িয়ে ১ লক্ষ ডলার করে দেন ট্রাম্প।

তাঁর দাবি ছিল, H-1B ভিসার অপব্যবহার করে বহু সংস্থা কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমেরিকান নাগরিকরা।

বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

প্রতি বছর প্রায় ৮৫ হাজার বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসা দেওয়া হয়। এর প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতীয়। তাঁরা আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেন।

কিন্তু বিপুল ফি বাড়ানোর ফলে সংস্থাগুলি বিপাকে পড়ে। কর্মী পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন ২০টি প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলরা।

আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছিল, অতিরিক্ত ফি আসলে এক ধরনের আর্থিক জরিমানা, যা অভিবাসন আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট আরোপ করতে পারেন।

তবে বিচারক সেই যুক্তি মানতে রাজি হননি। রায়ে বলা হয়েছে, ‘কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কোনও নতুন কর আরোপ করতে পারেন না।

ফলে H-1B ভিসায় ১ লক্ষ ডলার ফি চালুর নীতি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা বাতিল করা হচ্ছে।’

H-1B ভিসায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান ভারতের তথ্য প্রযুক্তি কর্মীরা। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তাঁদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছিল।

পাশাপাশি প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ছাঁটাই এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র কারণে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিল অনেক আমেরিকান সংস্থাই। ফলে ভারত থেকে H-1B ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

অনেক ভারতীয় কর্মী চাকরি হারানোর পর নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে নতুন চাকরি না পেয়ে দেশে ফিরতেও বাধ্য হন।

আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টাও তুলেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তার মধ্যেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল আদালত।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর