মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: আগামী ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে ভিত্তিপ্রস্তর হতে যাওয়া কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
৮ থেকে ১০ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির গ্রীল কেটে বসতঘরে ডুকে এক স্কুল ছাত্রীসহ দুই নারীকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসময় ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।
এঘটনায় পুলিশ ছয়জন ডাকাতকে আটক করেছে বলে চকরিয়া থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
আহতরা বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (৮জুন) রাত ৮টার দিক মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ার ফুরুক আহমদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঘটনার পরপর চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাসের নেতৃত্বে চকরিয়া থানার ওসি মো.মনির হোসেনসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আটককৃত হলেন- মাতামুহুরী উপজেলার বড় ভেওলা ইউনিয়নের রেজাউল করিম, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত, তানজিদ । তবে আরেকজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশ^স্ত্র ডাকাতদল প্রবাসী ফুরুক আহমদ চৌধুরীর বাড়ির গ্রীল কেটে বাড়িতে ডুকে পড়ে।
পরে বাড়ির লোকজনদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক স্কুল ছাত্রীসহ দুই নারীকে মারধর এবং শারীরিক নির্যাতন করে।
এসময় ডাকাতদল আলমারী থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনার খবর পেরে চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাসের নেতৃত্বে থানার ওসি মো.মনির হোসেনসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এরপর পুলিশ ও স্থানীয় জনতা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জন ডাকাতকে আটক করেছেন।
ভোক্তভাগী স্কুল ছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম ফারুক বলেন, আমার বোন ও ভাগিনীকে ডাকাতদল পাশবিক নির্যাতন করেছেন। আমার ভাগিনীর অবস্থা আশংকাজনক।
তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (ওসি) মো.মাসুদ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতদল বাড়ি ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ও পুলিশ পুরো এলাকা ঘির রাখে।
সোমবার রাতে ঘটনার পর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জন ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস বলেন, প্রবাসীর বসতঘরে ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলেও স্বীকার করেছেন।













