কক্সবাংলা ডটকম(৯ জুন) :: নয়াদিল্লি থেকে ‘এই সময়’-কে দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গণভবন ছেড়ে আসা, ইস্তফা না-দেয়ার কারণ থেকে বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন, নিজের ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব বিষয়েই খোলামেলা সবিস্তার কথা বলেছেন শেখ মুজিবের কন্যা।
আজ তার প্রথম পর্ব।
প্রশ্ন: ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর কি আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
উত্তর: একসময় ব্যক্তিগতভাবে অবসরের কথা ভেবেছিলাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ভাবনা থেকে সরে এসেছি। দেশের মানুষ ও দলের নেতাকর্মীদের এই সময়ে ছেড়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: আপনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। সেই অবস্থান কি এখনও বহাল আছে?
উত্তর: জয়ের বক্তব্য আমার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতিফলন ছিল। আমি বহুবার বলেছি, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব আসুক। কিন্তু দেশের বর্তমান বাস্তবতায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এখন নয়।
প্রশ্ন: অবসরের চিন্তা থেকে সরে আসার মূল কারণ কী?
উত্তর: দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আমাকে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমন অবস্থায় দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: আপনি কি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে চান?
উত্তর: ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতা আমার লক্ষ্য নয়। তবে জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আমি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছি। দেশের মানুষের নিরাপত্তা, উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত হওয়াই আমার অগ্রাধিকার।
প্রশ্ন: আপনার অবসরের আগে কোন বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চান?
উত্তর: জনগণের নিরাপত্তা, উন্নত জীবনমান, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দলের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সুসংগঠিত করতে চাই। এসব নিশ্চিত হওয়ার পরই অবসরের বিষয়টি বিবেচনা করব।
প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতৃত্ব কার হাতে যাবে?
উত্তর: আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তির বা পরিবারের সম্পত্তি নয়। দলের কাউন্সিল, কর্মীদের মতামত, যোগ্যতা, ত্যাগ, সাহস ও আদর্শিক অবস্থানের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।
প্রশ্ন: দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
উত্তর: দলীয় পুনর্গঠন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কঠিন সময়ে যারা দলের পাশে রয়েছেন, তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। একই সঙ্গে প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতাও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
প্রশ্ন: তাহলে কি শিগগিরই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে?
উত্তর: আপাতত বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে দলকে সংগঠিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এলে কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং যোগ্য তরুণদের নেতৃত্বে আনা হবে।
প্রশ্ন: তরুণ নেতৃত্ব সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
উত্তর: বর্তমান পরিস্থিতিতেও অনেক তরুণ নেতা দৃঢ়তার সঙ্গে দলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সাহস, দেশপ্রেম ও সাংগঠনিক দক্ষতা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।
প্রশ্ন: আপনি সম্প্রতি বলেছেন, খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি কতটা বাস্তবসম্মত?
উত্তর: আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা স্থায়ী নয়। দেশের জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই আমাকে দেশে ফেরার শক্তি জোগাচ্ছে। আমার প্রত্যাবর্তন ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।
প্রশ্ন: দেশে ফিরে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী হবে?
উত্তর: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দেশ পুনর্গঠনের কাজে ভূমিকা রাখা। জনগণের শক্তিই আমার সবচেয়ে বড় ভরসা।













