বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের তৎপরতায় অস্থির সরকারি ও বিরোধী দল

🗓 বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ১৫ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ১৫ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ সেপ্টেম্বর) :: রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা সক্ষমতা, আগাম ব্যবস্থা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা নিয়ে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ জানায়। বেলা পৌনে ১২টার দিকে সড়ক-৩-এর একটি গলিতে জড়ো হয়ে তারা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।

ঘটনার পর গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮০ থেকে ১০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৮৩ জনে পৌঁছায় এবং তাদের মধ্যে ২৪ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এর মধ্যেই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পর্যায়েও পরিবর্তন এসেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই দিন গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদকেও ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। দুই ক্ষেত্রেই আদেশে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।

গুলশানের ঘটনার পর ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভাতেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ঝটিকা মিছিল ও জমায়েত ঠেকাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় এমন কর্মসূচি হলে থানার ওসি ও ডিসিকে দায়ী করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গুলশানের মিছিলের বিষয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে মাত্র আট মিনিট আগে তথ্য পাওয়ার কথা।

গুলশানের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৃথক দুই স্থানে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাত পৌনে ১১টার দিকে জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করা যায়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সহকারী প্রক্টররা গিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চায় না, তাদের কোনো পক্ষ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।

এদিকে গুলশানের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকারের কোনো অংশের ইঙ্গিত বা প্রশ্রয় ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল করা সম্ভব নয়। তাঁর প্রশ্ন, গোয়েন্দা সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মিছিল করার সুযোগ পেলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, সরকারের কোনো অংশ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এগুলো তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ; এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচি ঠেকাতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির নেতারা মনে করেন, কোনো ঝটিকা মিছিল বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ঠেকাতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। গুলশানে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঢিলেঢালা থাকলে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি চালানোর চেষ্টা করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির নেতাদের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলোর সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশ আবারও প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি একই সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সরকারের বিরোধিতার নামে এমন কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য বা কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয়, যার সুযোগ নিয়ে অন্য কোনো পক্ষ রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে; এ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।

তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বাইরে গুলশান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে—নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কর্মসূচির আগাম তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা কার্যকরভাবে শনাক্ত করতে পারছে এবং শনাক্ত করার পর কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে গুলশানের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক এলাকার কাছাকাছি কয়েকশ মানুষের জমায়েত এবং পরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ঘটনার পর ওসি ও ডিসিকে প্রত্যাহার এবং ডিএমপির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় এক রাতে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত বা গুলশানের ঘটনার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে এসব ঘটনার জন্য দায়ী করা নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা কর্মসূচি আগেই শনাক্ত করা, নাশকতার সম্ভাবনা প্রতিরোধ করা এবং কোনো পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল বক্তব্য ও কর্মসূচিও রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

‘মহাকাশ অস্ত্র’, কী আছে এসব অস্ত্রে

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আ.লীগের তৎপরতায় অস্থির সরকারি ও বিরোধী দল

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উখিয়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর