নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের জালিয়ার চাং গর্জনীয়া পাড়ায় দিনরাত সমানতালে নির্বিঘ্নে চলছে পাহাড় কেটে মাটি পাচার।
পায়ে ধরেও থামাতে পারেনি পাহাড় কাটা।
বিশাল আকৃতির পাহাড় কেটে ফেলার কারনে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে তিনটি অসহায় পরিবার।
পাহাড় ধসের আতঙ্ক, ভাঙনের আশঙ্কা আর অজানা বিপদের ভয়ে দিন-রাত কাটছে তাদের।
গত দুসপ্তাহ ধরে প্রতিটি রাতে মাটি সরে যাওয়ার শব্দ যেন তাদের কাছে মৃত্যুর অশনিসংকেত হয়ে ধরা দিচ্ছে।
স্কেভেটর গাড়ি (মাটি কাটার বিশেষ যন্ত্র) দিয়ে ৪-৫ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
ঝুঁকিতে বসবাস করা পরিবারগুলো হলো, আবদুল খালেক, আবদুল মালেক ও মোহাম্মদ সুইয়াবের পরিবার।
পাহাড় কেটে ফেলার পর তাদের বসতঘরের চারপাশের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ভূমিধস নেমে ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওমান প্রবাসী আমান উল্লাহ, আবু তাহের, বাচ্ছু, শাহাদাত ও ইসমাইল নামে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত।
তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড় নিধনের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসী আরও জানান, স্থানীয় দালাল অলী আহমদের মাধ্যমে ম্যানেজ হয়ে টইটং বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা মো. এহেসান অঘোষিতভাবে এসব পাহাড় কাটার অনুমোদন দিয়ে থাকেন।
ফলে প্রকাশ্যেই পাহাড় কাটা হলেও তা বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।
সরেজমিন পরিদর্শন গিয়ে দেখা গেছে, গর্জনীয়া পাড়ায় বিশাল আকৃতির একটি পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। মাটি কাটার কাজে একটি স্কেভেটর গাড়ি সেখানে রাখা হয়েছে।
পাহাড় কাটার দৃশ্যটি দেখলে মনে হয় পাহাড়ের বুক ছিড়ে সরু রাস্তা বেরিয়ে গেছে। দুপাশে তিনটি পরিবার একপ্রকার ভাঙনের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সুইয়াব জানান, জালিয়ার চাংয়ের পাহাড়টি বহু বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থান। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘আসমানের খুঁটি’ নামে পরিচিত।
আল্লাহর সৃষ্টি এই পাহাড় কেটে ফেলায় তারা এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। প্রতিবাদ করতে গেলেই পাহাড়খেকোদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী আবদুল খালেকের স্ত্রী জানান, পাহাড়টি এমনভাবে কেটে ফেলা হয়েছে যে যেকোনো মুহূর্তে তাদের ঘর ধসে পড়তে পারে।
বাড়ির পাশে সামান্য নিরাপদ দূরত্ব রেখে পাহাড় কাটার অনুরোধ জানালে উল্টো অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের শিকার হতে হয়েছে তাদের। তাদের পায়ে ধরেও থামাতে পারিনি পাহাড়কাটা।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি একাধিকবার অবগত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এতে ক্ষোভ ও হতাশা আরও গভীর হয়েছে তাদের মধ্যে। নিজেদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমি টইটং বিট কর্মকর্তা সাথে আলাপ করে দেখব। যদি আমাদের রিজার্ভের জায়গা হয় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













