রবিবার ৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজারে ৬২ কোম্পানিতে বিনিয়োগে ‘রেড এলার্ট’ : ৩২টি বন্ধ ও ৩০টি আর্থিক ঝুঁকিতে

🗓 বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

👁️ ২২৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

👁️ ২২৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম (১৮ জুন) :: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৬২টি কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এবং ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সম্প্রতি ডিএসই তাদের ওয়েবসাইটে দুটি পৃথক তালিকা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কোম্পানির বিষয়ে কার্যত ‘রেড এলার্ট’ বা সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকেন।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে কড়াকড়ি

সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ ও দুর্বল মানের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এরই মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলস ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ার লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

এখন দ্বিতীয় ধাপে আর্থিকভাবে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করেছে ডিএসই।

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে ডিএসই

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর হালনাগাদ তথ্য সহজে জানাতে বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পৃথক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে কারসাজি বন্ধে আরও সক্রিয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগে বিচ্ছিন্নভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন তা আরও গুছিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

৩২টি বন্ধ কোম্পানির তালিকা

ডিএসইর প্রকাশিত তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য বন্ধ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত, আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, এমারেল্ড অয়েল, জিবিবি পাওয়ার, খুলনা পাওয়ার, মেঘনা পিইটি, মেট্রো স্পিনিং, নিউলাইন ক্লথিংস, প্রাইম টেক্সটাইলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাস, ইয়াকিন পলিমার ও জাহিন স্পিনিংসহ মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠান।

তবে সতর্কসংকেত জারির পরও বাজারে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে দেখা গেছে। ৩২টি কোম্পানির মধ্যে ২২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। হামিদ ফেব্রিকস, প্রাইম টেক্সটাইলস ও নিউলাইন ক্লথিংসের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

বিএসইসির নতুন নেতৃত্বের কঠোর অবস্থান

গত ৪ জুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন মাসুদ খান। দায়িত্ব গ্রহণের দিনই তিনি ঘোষণা দেন, বাজার কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে ‘রিয়েল-টাইম’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষ করে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি নজরদারি থাকবে এবং বিএসইসির সব কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা।

পরে বিএসইসির নতুন কমিশন ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়, কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ তদন্ত করতে হবে।

আর্থিক ঝুঁকিতে আরও ৩০ কোম্পানি

নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি আবার বন্ধ কোম্পানির তালিকায়ও রয়েছে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন বন্ধ রয়েছে। ফলে কার্যত ৩০টি কোম্পানি আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিডিথাই ফুড, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মেঘনা সিমেন্ট, পিপলস লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স, উসমানিয়া গ্লাস ও ঝিল বাংলা।

এ ছাড়া লেনদেন বন্ধ থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকও এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় উচ্চ ঝুঁকির এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

May be an image of text

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর