সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর চূড়ান্ত পর্যায়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর

🗓 বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: অবশেষে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দর চালুর সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। এ লক্ষ্যে বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. মিল্লাত জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকভাবে চালু হলে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য দেশের পর্যটক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

জানা যায়, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৫ সালে। প্রথম পর্যায়ে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করা হলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তা পর্যাপ্ত ছিল না।

পরে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রানওয়েকে সম্প্রসারণ করে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট অংশ সমুদ্রভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জিং অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া বিমানবন্দরে প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, বোর্ডিং ব্রিজ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে এসব যন্ত্রপাতির কমিশনিং, ক্যালিব্রেশন ও সমন্বিত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্ধারিত সার্টিফিকেশন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অর্জন করেছে।

এখন কেবল বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ইন্টিগ্রেশন এবং অভ্যন্তরীণ কারিগরি কাজ শেষ হলেই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে। পাশাপাশি পুরনো টার্মিনাল ভবন অপসারণের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে দেশের পর্যটন শিল্পে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত, সেন্ট মার্টিন, হিমছড়ি, ইনানীসহ কক্সবাজার অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিকশিত হবে।

একই সঙ্গে বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরী হিসেবেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবেও নতুন পরিচিতি লাভ করবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

‘মহাকাশ অস্ত্র’, কী আছে এসব অস্ত্রে

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আ.লীগের তৎপরতায় অস্থির সরকারি ও বিরোধী দল

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর