কক্সবাংলা ডটকম :: নাসার মুন বেস কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস গার্সিয়া-গালান জানান, ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলা প্রথম ধাপে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে চাঁদের স্থায়ী ঘাঁটির ভিত্তি নির্মাণ করা হবে
চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
সম্ভাব্য ব্যয়বহুল বিলম্ব এড়াতে সংস্থাটি চন্দ্রপৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন অবকাঠামো পৌঁছে দিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করছে। খবর সিএনএন।
৩০ জুন নাসা জানায়, চারটি পৃথক মিশনের জন্য অ্যাস্ট্রোবটিক, ফায়ারফ্লাই এবং ইনটুইটিভ মেশিনস—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ৫৯০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে।
এসব মিশনের মাধ্যমে চাঁদে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, রোবট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল পাঠানো হবে। অ্যাস্ট্রোবটিক দুটি মিশনের দায়িত্ব পেয়েছে।
এছাড়া মঙ্গল গ্রহে ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রমিজ নামের একটি রোভারকে চাঁদের অভিযানে ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে নাসা।
এসব উদ্যোগ নাসার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য রোবোটিক প্রযুক্তির সাহায্যে চাঁদে এমন অবকাঠামো গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে মহাকাশচারীদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও গবেষণায় সহায়তা করবে।
নাসার মুন বেস কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস গার্সিয়া-গালান জানান, ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলা প্রথম ধাপে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে চাঁদের স্থায়ী ঘাঁটির ভিত্তি নির্মাণ করা হবে।
বাকি অর্থ ধাপগুলোয় খরচ হবে। যেখানে রয়েছে আবাসন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ। ২০৩০-এর দশকে চাঁদে আধা-স্থায়ী বসতি স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে নাসার।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন এ বছরের শেষ দিকে ‘ব্লু মুন’ ল্যান্ডার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
কিন্তু মে মাসে তাদের নিউ গ্লেন রকেট উৎক্ষেপণ পরীক্ষার সময় বিস্ফোরিত হওয়ায় প্রকল্পটি বড় ধাক্কা খায়।
নাসা জানিয়েছে, প্রয়োজনে ‘ব্লু মুন’ অন্য কোনো উৎক্ষেপণযানে পাঠানোর বিকল্পও বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে সময়সূচি ব্যাহত না হয়।
বর্তমানে নাসার আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার স্পেসএক্স চাঁদে মহাকাশচারী পরিবহনের জন্য স্টারশিপ রকেট তৈরি করছে, যদিও সেটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
অন্যদিকে, ফায়ারফ্লাই এরই মধ্যে সফলভাবে চাঁদে যান অবতরণ করিয়েছে এবং ইনটুইটিভ মেশিনসও চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে দুটি ল্যান্ডার পাঠিয়েছে।
সব মিলিয়ে নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণে মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার।
এই প্রকল্পটি নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অংশ, যার লক্ষ্য পাঁচ দশকের বেশি সময় পর মানুষকে চাঁদের মাটিতে ফিরিয়ে নেয়া এবং সেখানে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চাঁদে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। প্রযুক্তিগত, রাজনৈতিক, নৈতিক এবং অর্থায়ন-সংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।














