নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মগনামা নৌপথে সি-ট্রাক চলাচল অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। বড়ঘোপ ঘাটের পল্টনের (জেটি) দুটি পিলার তলিয়ে যাওয়ায় সি-ট্রাক নিরাপদে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফলে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর উদ্দেশ্যে চালু করা সি-ট্রাক বর্ষার মধ্যেই অচল হয়ে পড়েছে।
এতে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ মারাত্মক সংকটে পড়েছেন। বিকল্প নৌযানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক আওরঙ্গজেব বলেন, “বর্ষাকালে যদি সি-ট্রাকই চলতে না পারে, তাহলে এত বড় প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী ছিল? মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য চালু হওয়া এই সেবা সবচেয়ে প্রয়োজনের সময়ই বন্ধ। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।”
যাত্রী জাফর আলম বলেন, “পল্টনের পিলার দ্রুত সংস্কার না করলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে পারাপার করছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা সেজাউল করিম মনি অভিযোগ করে বলেন, “এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বড়ঘোপ ঘাটের পল্টনের দুটি পিলার হেলে পড়ে তলিয়ে গেছে। এটি নির্মাণকাজের মান এবং তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। দুর্ভোগের শেষ নেই।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো যদি প্রথম বর্ষাতেই অচল হয়ে যায়, তাহলে নির্মাণের গুণগত মান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা কোথায়? তাদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে পল্টন সংস্কার করে সি-ট্রাক চলাচল পুনরায় চালু করতে হবে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন নৌযোগাযোগ নিশ্চিত না হলে কুতুবদিয়ার লাখো মানুষের দুর্ভোগ আরও প্রকট হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।














