শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন, ঘোষণা শেখ হাসিনার

🗓 শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭১ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

👁️ ৭১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১০ জুলাই) :: গত মাসে ‘এই সময়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চলতি বছরে দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানালেন, ডিসেম্বরেই নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন।

শেখ হাসিনা সংবাদ সংস্থাটির প্রতিনিধির কাছে বলেছেন, ‘তারা (বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি সরকার) আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বার বার ভারতে চিঠি পাঠাচ্ছে।

তবে আমি নিজেই ফিরে যাব।’ এর পরে আওয়ামি লিগের সভানেত্রী হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে।

তাঁদের অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। আমি তাদের বলছি, এ বার আমি দেশে ফিরছি। তোমরাও সবাই এসো। সবাই এক সঙ্গে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।’

যদিও ডিসেম্বরের ঠিক কোন দিনটিতে তিনি দেশে ফিরবেন, বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, এখনই তা জানাতে চাননি হাসিনা।

তবে কারও সঙ্গে কোনও গোপন বোঝাপড়া করে তিনি দেশে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন মুজিব-কন্যা।

হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার— এসব গোপন আলোচনার বিষয় নয়।’

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার ঘোষণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভি বলেছেন, ‘আওয়ামি লিগের নেতারা দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন না, তা সেই দলের সিদ্ধান্ত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের একটি মামলার বিচার শেষে আদালতে হাসিনার ফাঁসির রায় হয়েছে।

আরও অনেক হত্যা মামলায় আদালতে তাঁর বিচার চলছে। হাসিনার অপরাধের ব্যাপারে আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে।’

তবে, রিজভি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত হোক, সেটা জনগণ চান।’

হাসিনা ‘এই সময়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে সেটি কোনও বিচার নয়, এটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ মাত্র।

আইসিটি-র ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালে ন্যায়বিচারের কোনও মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।

আমাকে এবং বাংলাদেশ আওয়ামি লিগকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে দূরে রাখার জন্যই বিচারের নামে এই প্রহসন করা হয়েছে।’

এ দিন রয়টার্সকে হাসিনা বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক। আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।’

২০২৪-এর ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনীর বিমানে চলে আসেন দিল্লি। ভারত সরকার তাঁকে আতিথ্য দেয়।

গত মাসের ১৪ তারিখে ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘আওয়ামি লিগের ইতিহাসই হলো দুঃসময়ের ইতিহাস, সংগ্রামের ইতিহাস, ফিরে আসার ইতিহাস।

আমার প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত।’

এ দিন হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে ফিরলে আমি গ্রেপ্তার হতে পারি। খুনও হতে পারি। কিন্তু তবু আমি ফিরব। এই বছরেই।’

হাসিনা দাবি করেন, জেলে যাওয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। জীবনে অনেক বার তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

আওয়ামি লিগকে দেশে ফেরানো নিয়ে তারেক রহমানের সরকার নরম, এমন অভিযোগ সম্প্রতি বার বার তুলছিল জামায়াতে ইসলামি এবং তাদের শরিক এনসিপি।

এমনকি বিএনপির ধানের শিস এবং আওয়ামি লিগের নৌকা প্রতীককে এক করে এনসিপি নেতারা বলতে শুরু করেছেন, দু’দল হাত মিলিয়ে ‘নৌকার শিস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে!

তবে সরকার কোনও ভাবেই আওয়ামি লিগের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছে না।

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যে অর্ডিন্যান্স এনে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কাজকর্মে নিষেধাজ্ঞা এনেছিল, তারেক রহমান সরকার আইন করে তা স্থায়ী করেছে।

বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামি লিগের নেতাকর্মীদের গণগ্রপ্তার এখনও চলছে। বিএনপির যুব ও ছাত্রকর্মীদের হাতে আওয়ামি কর্মীদের বেধড়ক মারধর খাওয়ার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।

তবে হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পরে গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে থাকা আওয়ামি লিগের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়েছেন।

ধরপাকড়, মার, পুলিশের নজরদারি উপেক্ষা করে তাঁরা বাংলাদেশের সর্বত্র গেরিলা কায়দায় মিছিল ও সভা করছেন।

ডিসেম্বরে তাঁদের নেত্রী দেশে ফিরছেন ঘোষণা করার পরে এঁদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬