রবিবার ৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান: ফ্রান্সের FCAS-এ যোগ দিতে ভারতের উদ্যোগ

🗓 শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৩৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৩৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৮ আগস্ট) :: ভারত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ শুরু করেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, ফরাসি সরকারের নেতৃত্বাধীন Future Combat Air System (FCAS) কর্মসূচিতে যুক্ত হতে ভারত ‘সমন্বিতভাবে’ বা concerted manner-এ কাজ শুরু করেছে।

ভারতের এই উদ্যোগের বিষয়টি দেশটির সংসদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কমিটি সরকারকে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন ও অধিগ্রহণের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং সময়সীমা তৈরির সুপারিশও করেছে।

FCAS মূলত শুধু একটি নতুন যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প নয়।

এর লক্ষ্য ভবিষ্যতের একটি পূর্ণাঙ্গ Combat Air System তৈরি করা, যেখানে মানবচালিত যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি উন্নতমানের ড্রোন ও unmanned systems, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত সেন্সর, নিরাপদ ডেটা-শেয়ারিং এবং network-centric warfare-এর মতো প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করবে।

ফলে ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে শুধু একটি বিমান নয়, বরং একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কই হবে যুদ্ধক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

ভারতের জন্য এ উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দেশটি একই সময়ে নিজস্ব Advanced Medium Combat Aircraft (AMCA) প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, AMCA-এর নকশা প্রস্তুত হয়েছে এবং এর উৎপাদন নিয়ে আলোচনা চলছে।

অর্থাৎ, একদিকে দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রযুক্তিতে প্রবেশ—দুই পথেই এগোতে চাইছে নয়াদিল্লি।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৃষ্টিতে এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রযুক্তিগত ব্যবধান।

সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে, বিশ্বে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়ে দুটি বড় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ রয়েছে—একটি যুক্তরাজ্য, ইতালি ও জাপানের Global Combat Air Programme (GCAP) এবং অন্যটি ফ্রান্সকেন্দ্রিক FCAS

ভারতীয় বিমানবাহিনী যাতে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য অন্তত একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে FCAS নিয়ে ইউরোপে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও কাজের ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের পর ২০২৬ সালের জুনে মূল যৌথ কর্মসূচি ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এর ফলে এখন ভারতের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ঠিক কোন কাঠামোয় হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত যদি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়, তাহলে দেশটির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে শুধু ভবিষ্যতের যুদ্ধবিমান পাওয়া নয়; বরং co-development, co-production, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পখাতে অংশীদারিত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ মেধাস্বত্বের অধিকার নিশ্চিত করা।

কারণ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশি প্রযুক্তি কেনার পাশাপাশি নিজস্ব বিমান ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত উন্নত propulsion, stealth, artificial intelligence, manned-unmanned teaming এবং combat-network প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে। এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচিতেও পরোক্ষভাবে কাজে লাগতে পারে।

তবে এখনই ভারতের FCAS-এ চূড়ান্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে বলা যাচ্ছে না। প্রকল্পের কাঠামো, অংশীদারিত্বের ধরন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, work-share এবং intellectual property rights নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।

ফলে আপাতত ভারতের পদক্ষেপকে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রযুক্তিতে দ্রুত প্রবেশের একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভারতের লক্ষ্য এখন শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়; বরং ভবিষ্যতের এয়ার-কমব্যাট প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অংশীদার হওয়া।

AMCA-এর পাশাপাশি ষষ্ঠ প্রজন্মের আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে প্রবেশের এই প্রচেষ্টা সফল হলে ভারতের সামরিক বিমান প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর