সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

She Leads Tomorrow’-এ নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব উদযাপন

🗓 রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ২৬ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ২৬ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা রিপোর্ট :: নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাকে উদযাপন করতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘She Leads Tomorrow’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠান।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, UN WomenUNOPS বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ছিল ‘Enhancing Women’s Political Leadership through SDG 5 and SDG 16 Localisation in Bangladesh’ প্রকল্পের জাতীয় প্রচার ও সমাপনী আয়োজন।

রোববার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত এ উদ্যোগটি Joint SDG Fund-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের এক হাজারেরও বেশি কিশোরী ও তরুণীকে নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন এবং নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ নারী নেতারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাগরিক অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জুবাইদা রহমান

বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আবদুর রহিম সাকি, এমপি

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের SDG-বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. এস এম আবদুল আওয়াল

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জুবাইদা রহমান তরুণ অংশগ্রহণকারীদের অর্জনের প্রশংসা করে ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, তরুণ নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তারা শুধু নিজেদের সম্প্রদায়কেই শক্তিশালী করেন না, দেশের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করেন। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ নারীদের কণ্ঠ, চিন্তা ও নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আবদুর রহিম সাকি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আজকের তরুণ নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা মানেই আগামী দিনের জন্য আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের SDG-বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. এস এম আবদুল আওয়াল স্থানীয় পর্যায়ে SDG বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, SDG স্থানীয়করণ হলো জাতীয় অঙ্গীকারকে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থবহ কার্যক্রমে রূপ দেওয়া।

এ যাত্রায় তরুণ নারীদের সক্রিয় অংশীদার হতে হবে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্ত ও সমাধান তৈরির প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল লার-প্রেজেনিয়াক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। SDG বাস্তবায়নের অগ্রযাত্রায় কাউকে পিছিয়ে না রাখার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন UNOPS বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন। তিনি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা ও সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে তরুণ নারীদের নেতৃত্বে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

UN Women বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং নারী ও কিশোরীদের জন্য এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যেখানে তারা নেতৃত্ব দিতে, অংশগ্রহণ করতে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্তে কার্যকর প্রভাব রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘She Leads Tomorrow’ কফি-টেবিল বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা। প্রধান অতিথি বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বইটিতে প্রকল্পে অংশ নেওয়া তরুণীদের সাহস, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হয় ‘She Leads Tomorrow’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এতে প্রকল্পের মাধ্যমে জীবনে পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা অর্জন করা কিশোরী ও তরুণীদের গল্পকে শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, গল্প বলার পর্ব, ভিডিও প্রদর্শনী এবং Inclusion Ceremony অনুষ্ঠিত হয়। পরে নারীর কূটনৈতিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং লিঙ্গসমতা এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কিশোরীদের নেতৃত্ব বিকাশ, নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং অর্থবহ অংশগ্রহণে অবদান রাখার জন্য অংশীদার স্কুলগুলোকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ১২ মাসব্যাপী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। সরকারি স্কুল, মাদ্রাসা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এক হাজারেরও বেশি কিশোরী ও তরুণী এতে অংশ নেয়।

প্রকল্পের আওতায় নেতৃত্ব বিকাশ, মেন্টরশিপ, নাগরিক শিক্ষা, নীতি সংলাপ ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি নাগরিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়।

প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো ‘Bangladesh Model for SDG Localisation’ তৈরি করা। এটি একটি সম্প্রসারণযোগ্য কাঠামো, যা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম উৎসাহিত করে, SDG বাস্তবায়নে স্থানীয় মালিকানা জোরদার করে এবং টেকসই উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় তরুণ নারী নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করে।

সমাপনী পর্যায়ে ‘She Leads Tomorrow’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সমতাভিত্তিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত তরুণ নারীদের সাহস, দৃঢ়তা ও আকাঙ্ক্ষার উদযাপনের একটি মঞ্চ।

এই বিভাগ এর আরো খবর

মোনালিসা চুরির ১১৫ বছর

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর