সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় রদবদল : বাড়ল কলেবর, নেপথ্যে কী?

🗓 রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৪৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৪৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৩ আগস্ট) :: সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়িয়ে রদবদল করেছে বিএনপি। নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রী করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেওয়ার পর দিবাগত রাতে নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

নতুন চার মন্ত্রী হলেন ড. আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট) ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। নতুন ছয় সদস্যের মধ্যে পাঁচজন বিএনপির এবং একজন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

মন্ত্রিসভা গঠনের ছয় মাসের মাথায় এই রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। একই মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ, একজন পূর্ণমন্ত্রীকে সরিয়ে একই পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা এবং শরিক দলের একজন নেতাকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ এটিকে সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

আবার কারও মতে, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ কেউ সরকারের ভেতরের অস্থিরতারও ইঙ্গিত দেখছেন। সামনে মন্ত্রিসভায় আরও রদবদল হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় তার ছেড়ে দেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন নতুন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা রশিদুজ্জামান মিল্লাত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ের আগের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) এখন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

নতুন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হওয়া হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয়টির মন্ত্রী হিসেবে আছেন ড. খলিলুর রহমান।

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রণালয়টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়বেন না, তবে ছুটি নিতে পারেন। এরপর তিনি এক বছরের জন্য ছুটিতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই প্রতিমন্ত্রীর একজনকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে দায়িত্বশীল কোনো সূত্র এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

এদিকে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। তবে সরকার গঠনের পর মাত্র তিনটি দলের প্রধানকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংসদীয় আসন অনুপাতে বিএনপির ৩৬টি আসনের মধ্যে শরিকদের জন্য একটি আসনও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে কয়েকজন শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে অসন্তোষও প্রকাশ করেন।

এমন পরিস্থিতিতে গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনায় শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কয়েকজন শরিক নেতা নিজেদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। শরিকদের মধ্যে সরকার মাত্র তিনটি দলের প্রধানকে মূল্যায়ন করেছে এবং সবাইকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

এরপর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে পূর্ণমন্ত্রী করায় সরকার ভিন্ন বার্তা দিতে চায় বলে মনে করছেন জোটের এক শীর্ষ নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, সামনে রাজনৈতিক কঠিন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি হয়তো জোটের ঐক্য আরও সুসংহত করতে চাইছে।

এ কারণে সামনে মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক বা উবায়দুল্লাহ ফারুককেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। যদিও কেউ কেউ বিষয়টিকে এভাবে দেখতে রাজি নন। তাদের মতে, শরিকদের যেভাবে মূল্যায়ন করার কথা ছিল, সেভাবে করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘মন্ত্রিসভার রদবদল সরকার তার প্রয়োজন অনুযায়ী করতেই পারে। সেটি নিয়ে কিছু বলার নেই।’

পার্থকে মন্ত্রী করায় সামনে শরিকদের আরও মূল্যায়নের ইঙ্গিত আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমনটি মনে হচ্ছে না। সরকার হয়তো শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নৈশভোজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।’

ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মূলত দুই ধরনের মূল্যায়ন রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার মুখে না বললেও ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এটিকে সরকারের কাজের গতি বাড়ানোর স্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, যেকোনো সরকারই প্রশাসনের গতি বাড়াতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া স্বাভাবিক। অন্যদিকে কয়েকজন মন্ত্রী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দেখাতে না পারায় সরকারপ্রধানকে নতুন করে ভাবতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের সদর-অন্দরে কোনো অস্থিরতা যে চলছে না, সেটিও বলা যাচ্ছে না। কারণ জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে সরকার এক ধরনের বেকায়দায় আছে। এর প্রভাব হয়তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ওপরও পড়েছে। সে কারণে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।’

তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য ও মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে সরকারের মন্ত্রীদের ভালো পারফরম্যান্স নেই। এ সময়ে নিজেদের প্রয়োজনেই মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হয়েছে। তবে তাদের ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী।’

যদিও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, সব সরকারই কাজের গতি বাড়াতে প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় রদবদল করে। এটিকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই।

নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর একজন হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা প্রসঙ্গে শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী এক বছর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। ফলে কাজের সুবিধার জন্য এবং গতি বাড়াতে সরকার যে সিদ্ধান্তই নেবে, সে অনুযায়ী টিমওয়ার্ক হিসেবে আমরা কাজ করব।’

শনিবার দুপুরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দেশের সমস্যাগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে অবগত। দেশকে একটি গতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং বিশ্বের বুকে দেশের সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন।

মন্ত্রিসভায় রদবদলের কারণ জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকারের কিছু মন্ত্রণালয় শূন্য হয়েছে। সেখানে নতুন মন্ত্রী যুক্ত হবেন। আর কাজে গতিশীলতা আনতে রদবদল করা হবে। এটিই সাধারণ বিষয়, এ নিয়ে ভিন্ন কারণ খোঁজা অবান্তর।’

এই বিভাগ এর আরো খবর

কৃষিপণ্যে বছরে ক্ষতি ২৯ হাজার কোটি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর