সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাখাইনের মংডুতে ARSA কর্তৃক ১১৩ জন হিন্দু গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে ৯ম বার্ষিক শোক অনুষ্ঠিত

🗓 মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৬৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৬৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডেস্ক :: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার খামাউং সিক ও ইয়েবকচে গ্রামে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সংঘটিত নৃশংস হামলায় নিহত হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের স্মরণে নবম বার্ষিক শোক ও স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে প্রার্থনা, মঙ্গলকামনা ও শোক প্রকাশ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মংডু টাউনশিপের উত্তরাঞ্চলের খামাউং সিক ও ইয়েবকচে এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের হিসাবে ওই ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হন।

তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও তদন্তমূলক নথিতে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নথিতে ওই দিনের ঘটনায় ইয়েবকচে ও খামাউং সিক থেকে মোট ১০৫ জন হিন্দুকে অপহরণের সাক্ষ্য এবং তাদের মধ্যে ৪৫ জনকে হত্যার বর্ণনা রয়েছে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইয়েবকচে গ্রামের কাছে দুটি গণকবর থেকে প্রথমে ২৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন আরও ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হলে মোট ৪৫ জন হিন্দুর মরদেহ শনাক্ত করা হয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। পরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া কয়েকজন হিন্দু নারী ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে হামলাকারীদের সঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি—এআরএসএ (ARSA)-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

২০১৮ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও তদন্তের ভিত্তিতে খামাউং সিক এলাকার হিন্দু হত্যাকাণ্ডের জন্য এআরএসএকে দায়ী করে। তবে এআরএসএ ওই অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছিল।

স্মরণ অনুষ্ঠানে নিহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ইউএলএ/এএ-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিরাপত্তাবিষয়ক বক্তব্য দেন।

তারা স্থানীয় জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অবহিত করার এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

আরাকান আর্মির (AA) এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে এআরএসএসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক ও নজরদারিতে থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে মংডু জেলার প্রশাসক, মংডু জেলা পার্টির উপ-জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, জাতীয় ঐক্য বিভাগের প্রতিনিধিরা, রাখাইন স্টেট স্টুডেন্ট ইউনিয়নের শিক্ষার্থী, হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ইউএলএ/এএ-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ২০১৭ সালের সহিংসতার পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশ বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাস করছে।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে ১১০টি পরিবারের প্রায় ৫১০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন। তারা ২০১৭ সালের সহিংসতার পর মংডু টাউনশিপের বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

তাদের অনেকেরই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হলে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া। ফলে মংডুর হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ২৫ আগস্ট শুধু একটি শোকের দিন নয়; এটি তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণ, অতীতের সহিংসতার বিচার এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ সহাবস্থানের দাবিরও প্রতীক হয়ে আছে।

 

এই বিভাগ এর আরো খবর

কৃষিপণ্যে বছরে ক্ষতি ২৯ হাজার কোটি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর