বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে সাগরে নিখোঁজ হওয়া এক পর্যটকের লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাতটার দিকে জেলার মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া সৈকত এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সোয়া দুইটার দিকে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা সৈকত এলাকায় সাগরে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন তিনি।
নিহত পর্যটকের নাম ইব্রাহিম খান (২৩)। তিনি ঢাকার জেডকেপি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
তাঁর সঙ্গে থাকা মো. ইয়াসিন খান (২৫) নামের আরেক পর্যটকও সেদিন সাগরে ডুবে নিখোঁজ হন।
তবে ওই দিনই তাঁর লাশ উদ্ধার করেন সি-সেফ লাইফগার্ডের সদস্যরা। ইব্রাহিম ও ইয়াসিন সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
পুলিশ ও লাইফগার্ড সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম, ইয়াসিনসহ পাঁচজন বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতে গোসলে নামেন।
এ সময় সাগরে হঠাৎ বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে ইব্রাহিম ও ইয়াসিন পানির স্রোতে ভেসে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে লাইফগার্ড সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
পরে সি-সেফ লাইফগার্ডের সদস্যরা ইয়াসিন খানকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও ইব্রাহিমের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে লাইফগার্ড সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সন্ধান চালিয়ে আসছিলেন।
সি-সেফ লাইফগার্ডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ইব্রাহিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাঁকে উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।
শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে জোয়ারের পানিতে সোনাদিয়া সৈকত এলাকায় একটি লাশ ভেসে ওঠে। স্থানীয় লোকজন লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।’
খবর পেয়ে মহেশখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে স্বজনেরা লাশটি ইব্রাহিম খানের বলে শনাক্ত করেন।
মহেশখালী থানা-পুলিশ জানায়, সাগরে গোসলের সময় নিখোঁজ হওয়ার পর জোয়ারের স্রোতে লাশটি ভেসে সোনাদিয়া সৈকতে পৌঁছেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিখোঁজ পর্যটক ইব্রাহিম খানের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সাগরে গোসল করতে গিয়ে পর্যটকদের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা কক্সবাজারে প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাগর উত্তাল থাকায় সৈকতে বড় ঢেউ ও তীব্র স্রোত তৈরি হয়। এ সময় পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না নামা এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে আসছে প্রশাসন ও লাইফগার্ড কর্তৃপক্ষ।














