শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিমালয়ের ভূ-পৃষ্ঠের উষ্ণতায় রেকর্ড : তার জেরেই কি নেপাল ও তিব্বতে এই মহাপ্রলয়?

🗓 শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৯ আগস্ট) :: হিমালয়ের বুকে ভয়াবহ হড়পা বানের কারণ নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, ততই সামনে উঠে আসছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ। নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকায় যে বিপর্যয় ঘটেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে হিমবাহ ধসে পড়ার মতো ঘটনা। তার প্রভাবে কার্যত সুনামির মতো প্রলয় দেখা গিয়েছে ওই পাহাড়ি এলাকায়।

প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল ভূমিকম্পের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। পরে উপগ্রহ চিত্র এবং আরও নানা তথ্য দেখে বিশেষজ্ঞরা জানতে পারেন, হিমবাহের একটি বিশাল আয়তন ভেঙে পড়ে। তার জেরে বরফ, কাদা, পাথর ও জলের স্রোত উপত্যকা বেয়ে ধেয়ে যায় নীচের দিকে।

US Geological Survey-এর তরফে বলা হয়েছে, হিমবাহ ধস এবং কাদা-পাথর-জলের স্রোতের অভিঘাতে রিখটার স্কেলে কম্পন অনুভূত হয়েছে।

May be an image of motorcycle

কী ভাবে ঘটল ভয়াবহ বিপর্যয়?

নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর দিকের ঢালে হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে পড়ে। তার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদার স্রোত নীচের দিকে নেমে আসে। নদী বেয়ে জলস্রোত আঘাত হানে নীচের এলাকায়, যেখানে জনবসতি রয়েছে। ত্রিশূলি বা ভোটকোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে গিয়েছিল। নেপালের ICIMOD (International Centre for Integrated Mountain Development)-এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাত্র আধ ঘণ্টায় নদীর জলস্তর প্রায় ৭-৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।

The Guardian-এর প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের মতো পার্বত্য অঞ্চল ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে দুর্বল হয়ে পড়ছে হিমবাহ এবং পার্মাফ্রস্ট। এর জেরে হিমবাহ ধস, ভূমিধস এবং হড়পা বন্যার মতো আশঙ্কা বাড়ছে।

No photo description available.

ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এমন বিপদ?

জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পাহাড়ের পাথুরে গায়ের সঙ্গে হিমবাহ আটকে থাকার জন্য যে বরফ থাকে সেটা গলে যাচ্ছে, তার জন্য বাঁধুনি আলগা হয়ে ধস নামছে।

The Guardian-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ আন্টার্কটিক সার্ভের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ড. হামিশ প্রিটচার্ড জানিয়েছেন, হিমবাহ ধসের পড়ার ঠিক ২ দিন আগে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গত ২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছিল। ওই এলাকা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে তাঁর টিমের সেন্সর রয়েছে, তার মাধ্যমেই এই তথ্য মিলেছে। তাঁর মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বরফের বাঁধুনি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ক্রিভাসের মধ্যে জল ঢুকে পড়েছিল। তার ফলেই বরফ ও পাথরের বাঁধুনি আলগা হয়ে যাওয়ায় ধসে নেমেছে হিমবাহ।

বিশ্বজুড়ে এই বিপদের ইঙ্গিত আগেও দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। ২০২৩ সালে UN-এর শীর্ষস্থানীয় একটি কমিটি জানিয়েছিল, উষ্ণায়নের কারণে তুন্দ্রা এলাকা থেকে পার্বত্য হিমবাহ- সব জায়গায় স্থিতিশীলতা কমছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বার বার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিশ্বের তাপমাত্রা যত বাড়বে ততই প্রভাব বাড়বে এমন দুর্যোগের।

The Guardian-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয় অঞ্চল বিশ্বের গড় উষ্ণতা বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। ফলে বিপদ বাড়ছে এই এলাকায়। নেপালের ICIMOD-এর অন্যতম রিপোর্ট HKH Glacier Outlook 2026-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০০০ সালের পর থেকে হিমবাহগুলির আয়তন হ্রাসের গতি অনেক বেড়ে গিয়েছে।

হিমালয়ের পরিস্থিতি এমন দিকে এগোচ্ছে যে, সেটা আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ৩৮টি হিমবাহের তথ্য পরীক্ষা করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে ICIMOD।

তবে এটাও বলা হয়েছে যে, ৩৮টির মধ্যে ৭টি হিমবাহের ক্ষেত্রে গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক ব্যবহার করে নজরদারি করা হয়। এমন বহু হিমবাহ রয়েছে, যেগুলির ঠিকমতো নজরদারির আওতায় পড়ে না বলেও দাবি করা হয়েছে একাধিক প্রতিবেদনে। রাষ্ট্রপুঞ্জের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩০ বছরের কিছু বেশি সময়ে নেপালের পাহাড়গুলি তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে।

No photo description available.

বিপদের আশঙ্কা হিমবাহ হ্রদ নিয়েও

শুধু হিমবাহ ধস নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাহাড়ের হিমবাহ হ্রদগুলি বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। হিমবাহ গলে জল তৈরি হয়, সেটা প্রাকৃতিক বাঁধের পিছনে জমতে থাকে এবং ধীরে ধীরে হ্রদ তৈরি করে।

কখনও কোনও কারণে ওই বাঁধ ভেঙে পড়লে, বিপুল জলরাশি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসবে নীচের উপত্যকায়।এই ধরনের ঘটনা Glacial Lake Outburst Flood বা GLOF।

তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ২০০০-এরও বেশি এমন হ্রদ রয়েছে। যেগুলির মধ্যে ২১টি বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা।

May be an image of helicopter

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর