সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদগাঁও থেকে বিলুপ্ত প্রাচীন ঐতিহ্য চিরচেনা পালকি

🗓 শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ২৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ২৪ বার দেখা হয়েছে

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও :: একসময়ে একটি জনপ্রিয় বাহন ছিল পালকি। এটি বাঙালি জাতির প্রাচীন ঐতিহ্যের অন্যতম এক নিদর্শনও বটে। বিশেষ করে বিয়ে উৎসবে পালকির কদর কম ছিলনা।

পূর্বেকার দিনে পালকি ছাড়া বিয়ে উৎসব কল্পনাই করা যেতনা। গ্রামীণ আঁকা-বাঁকা মেঠো পথে, বর-কনে পালকি চড়ে উভয়ের শ্বশুর বাড়িতে আসা-যাওয়া বাধ্যবাদকতা ছিল। গ্রামের পথে পালকিতে করে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য উঁকি-ঝুঁকি দিয়ে মন জুড়াত গাঁওয়ের বধূ, কখনও মা-চাচি, এমনকি আনন্দ উল্লাস থেকে উঠতি বয়সের চঞ্চল মেয়েরাও বাদ পড়তো না।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পাড়া মহল্লাজুড়ে সে ঐতিহ্যবাহী পালকির কদর তেমন আর চোখে পড়েনা। বতমান যুগে আধুনিকতার ছোঁয়ায় পালকিকে পেছনে ফেলে কতইনা আধুনিক মডেলের পরিবহন সামনে এসেছে। তার কোন হিসেব নেই।

পালকি মানুষের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন একটি বাহন ছিল। সে সময়ে যোগাযোগ ব্যাবস্থা এখনকার সময়ের চাইতে হাজার গুন পিছিয়ে ছিল। বেহারার পালকি কাঁধে বহন করার দৃশ্যকাব্য ছিলো নিদারুণ সুন্দর। পেছনে বর যাত্রীরা কেমন করে গন্তব্যের পথে নবীন, প্রবীণ, তরুণ, তরুণী, বালক-বালিকারা পুরনো দিনের গল্প আর হৈ-হুল্লোড় আর দুষ্টুমিতে আনন্দধারা চলার গল্প শোনে অবাক লাগে এখনো।

সাধারণত বর-কনের জন্য পালকি হলেও এ বাহনটি ছিল রাজরাজাদের একমাত্র বাহন। আধুনিক আমলের গাড়ির প্রচলন ছিলনা বলে অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা পালকিতে চড়েই যাতায়াত করত। পালকি রাজা-বাদশাদের জন্য চেয়ারের মতো করে নির্মাণশৈলীতে তৈরি করা হতো। পালকির অপর নাম ছিল পালঙ্ক। বরকে যখন পালকিতে বেহারারা বহন করে নির্দিষ্ট ছন্দের তালে তালে, তাল মিলিয়ে নেচে-গেয়ে পা ফেলে চলত।

গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে অনুষ্ঠানে বর-কনের জন্য পালকি ব্যবহারের নিয়ম প্রথা চালু ছিল। তবে প্রকৃতি থেকে একেবারে বিলীন না হলেও হয়তো কোথাও কোথাও এখনও টিকে আছে। ধারণা করে যেতে পারে বিলুপ্তির পথে।

প্রাচীনকাল থেকে জমিদার শ্রেণী ছাড়া বেহারাদের প্রতি তেমন একটা সুনজর ছিলনা, কোন রকমে বেহারাদের জীবন ও জীবিকা চলত। সেই সময়ে স্থায়ী বেহারা রাখা ছিল খুবই ব্যয়সাধ্য ব্যাপার।

পূর্বেকার দিনে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বাঁশঘাটা নামক এলাকার পালকির ব্যবসা করতো। বতমানে সেটির দেখা নেই।

অত্যাধুনিক যুগে পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রচীন ঐতিহ্যকে হারিয়ে দিয়েছে। এখন বর-কনে বিয়ের পিঁড়িতে বসছে বিমান, হেলিকপ্টার ও অত্যাধুনিক নামীদামী কোটি কোটি টাকা সমমূল্যে গাড়িতে। পালকি ও বেহারাদের চাহিদা দিনে দিনে হ্রাস পেয়ে প্রায় শুন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য বেহারারা বাপ-দাদার নিয়ম প্রথা এখন আর মানছেনা।

ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বাহন পালকি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

প্রবীণ মুরব্বি আহমদ হোসেন জানান, একসময়ে গ্রামীন জনপদে পালকির প্রচলন ছিল। এখনকার যুগে এটি হারিয়ে গেছে।

আলম নামের আরেক মুরব্বি জানান, পাড়া মহল্লার বিয়ে বাড়ীতে পালকির কদর ছিল খুব বেশি। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেটি বিলুপ্ত।

এই বিভাগ এর আরো খবর

ফলে লাগানো ‘ফরমালিন’ দূর করার সঠিক নিয়ম

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর