কক্সবাংলা ডটকম(৩ অক্টোবর) :: অবৈধ ভিসা বাণিজ্য হলো একটি অপরাধমূলক প্রক্রিয়া যেখানে সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে বিপুল অর্থের বিনিময়ে জাল ভিসা তৈরি, কর্মসংস্থানের ভুয়া আশ্বাস বা অননুমোদিত উপায়ে অন্য দেশের ভিসা বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট কেনাবেচা করা হয়।
সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে এই অদৃশ্য বাণিজ্যের বাজার নূন্যতম ৩০ হাজার কোটি টাকার। এর ফলে সাধারণ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা চরমভাবে প্রতারিত হচ্ছেন এবং দেশের সামগ্রিক রেমিট্যান্স খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে যাওয়ার সময় উচ্চ অভিবাসন ব্যয় ও ভিসা বাণিজ্যের শিকার হচ্ছেন। কাঙ্ক্ষিত চাকরি, বেতন ও কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা ছাড়াই বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশে গিয়ে অনেকে প্রতিশ্রুত কাজ পাচ্ছেন না। আবার কেউ কাজ পেলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা বেতন বা সুযোগ-সুবিধা বাস্তবে মিলছে না।
বিদেশ যাওয়ার আগে অনেক কর্মীর হাতেই প্রকৃত নিয়োগকর্তার চুক্তিপত্র থাকে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র দেয়া হলেও গন্তব্য দেশে গিয়ে দেখা যায়, সেটির সঙ্গে প্রকৃত নিয়োগকর্তা, কাজ কিংবা বেতনের কোনো মিল নেই।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মধ্যস্থতাকারী ও দালালদের একটি অংশ নিজেদের মতো করে নথি তৈরি করে কর্মীদের কাছে উপস্থাপন করে। এর ফলে বিদেশে গিয়ে কর্মীরা প্রতারণার শিকার হলেও দায় নির্ধারণ ও প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তবের বড় ফারাক
অভিবাসন খাতে অঘোষিত লেনদেনের সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকলেও বিদেশগামী কর্মীদের প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনা করলে এর ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন।
এর মধ্যে শীর্ষ ১০টি দেশে যাওয়া কর্মীদের সরকার নির্ধারিত হারে অভিবাসন ব্যয় হওয়ার কথা ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে পাওয়া দেশভিত্তিক সর্বনিম্ন ব্যয় হিসাব করলেও ওই ব্যয় দাঁড়ায় ৫৮ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় ব্যবধান প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ ভিসা কেনাবেচা, মধ্যস্বত্বভোগীদের কমিশন ও বিভিন্ন অননুমোদিত লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভিসা কেনাবেচা, মধ্যস্বত্বভোগীদের কমিশন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অননুমোদিত লেনদেন মিলিয়ে এ অদৃশ্য বাজারের আকার বছরে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সরকারি তথ্য বিশ্লেষণেও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রকৃত অভিবাসন ব্যয় সরকার নির্ধারিত হারের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সৌদি আরবে ভিসার দাম কয়েক গুণ
সৌদি আরবের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মী সরবরাহকারী বাংলাদেশি এজেন্ট জাকারিয়া সিকদারের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে একটি ভিসার প্রাথমিক খরচ প্রায় ২ হাজার রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। তবে কাজের অনুমতিপত্র সংগ্রহের পর্যায়েই এর সঙ্গে আরও এক থেকে দেড় লাখ টাকা যুক্ত হয়।
তার ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে এমন সৌদি কফিল বা মালিকের নামে কর্মীর ভিসা অনুমোদন নেয়া হয়, যার প্রকৃতপক্ষে ওই কর্মীর প্রয়োজন নেই। একজন মালিক নিজের নামে একাধিক কাজের অনুমতিপত্র নিয়ে প্রতিটির বিপরীতে অর্থ নেন। কর্মী সৌদি আরবে প্রবেশের পর কাগজে-কলমে এক প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকলেও বাস্তবে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
এভাবে সৌদি আরবেই একটি কাজের অনুমতিপত্রের মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। পরে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি, সাব-এজেন্ট ও দালালের মাধ্যমে কয়েক দফা হাতবদলের সময় কমিশন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে ভিসার দাম প্রাথমিক ব্যয়ের তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ইকামা বা ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রেও কফিলকে অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ব্যয়ের বড় অংশ যায় দালালের হাতে
বিবিএসের সর্বশেষ আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ অনুযায়ী, বিদেশগামী কর্মীদের মোট অভিবাসন ব্যয়ের ৫২ দশমিক ৩ শতাংশই যায় দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের হাতে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এ হার আরও বেশি। অন্যদিকে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ অভিবাসী তাদের ব্যয়ের অর্থ রিক্রুটিং এজেন্সিকে এবং মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ সরাসরি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছেন।
অর্থাৎ বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় কর্মীদের বড় একটি অংশকে এখনো অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বায়রার কয়েকজন সদস্যের ভাষ্য, নিয়োগকর্তা ও বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যবর্তী সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীরা ভিসা বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি বিদেশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কর্মীর চাহিদা না পেয়ে বিদেশি প্রতিনিধি বা এজেন্টের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ভিসা সংগ্রহ করে। এরপর স্থানীয় পর্যায়ে সাব-এজেন্ট ও দালালের মাধ্যমে তা কর্মীদের কাছে পৌঁছে যায়।
মালয়েশিয়াতেও সিন্ডিকেটের অভিযোগ
বায়রার এক সদস্যের দাবি, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তালিকাভুক্ত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত হতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা করে দিতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বাবদ আরও কয়েক কোটি টাকা দেয়ার চাপ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সময় কর্মী পাঠানোর অনুমতি পেতে এজেন্সিগুলোকে জনপ্রতি এক লাখ টাকার বেশি অর্থ দিতে হয়েছিল।
হুন্ডির মাধ্যমেও যাচ্ছে বিপুল অর্থ
টিআইবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি নিয়োগকর্তা বা এজেন্টদের কাছ থেকে ভিসা কিনতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। সংস্থাটির হিসাবে, শুধু ২০১৬ সালেই ভিসা কেনার পেছনে আনুমানিক ৫ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। পরে এসব ভিসা কর্মীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ১৬ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা আদায় করা হয়।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যথাযথ যাচাই ছাড়াই বা ঘুষের বিনিময়ে ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের অভিযোগ রয়েছে। এরপর ভিসা বিদেশি নিয়োগকর্তা, স্থানীয় এজেন্ট, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি ও তৃণমূলের দালালসহ একাধিক স্তরে হাতবদল হয়। প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত ফি ও কমিশন যুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কর্মীর অভিবাসন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
নির্ধারিত ব্যয়ের কয়েক গুণ দিচ্ছেন কর্মীরা
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালে বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দেশভিত্তিক অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী সৌদি আরবে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার, কাতার ও ওমানে ১ লাখ ৭৮০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ লাখ ৭ হাজার ৭৮০, সিঙ্গাপুরে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৭০ এবং বাহরাইনে ৯৭ হাজার ৭৮০ টাকা নির্ধারিত ছিল।
কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে একজন কর্মীর ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সৌদি আরব যেতে গড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের কথাও জানা গেছে।
মালয়েশিয়ায় সরকার নির্ধারিত ব্যয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হলেও প্রকৃত ব্যয় ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে। কাতারে ৫-৬ লাখ, ওমানে ৪-৫ লাখ এবং সিঙ্গাপুরে ১৫-১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচের তথ্য পাওয়া গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে দেশভেদে ১৬ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। সার্বিয়া, মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় যাওয়া কর্মীদের জনপ্রতি ১৬-১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করার তথ্যও রয়েছে।
সৌদি আরবেই গেলেন ৭ লাখের বেশি কর্মী
বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জন গেছেন সৌদি আরবে। এরপর কাতারে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮, সিঙ্গাপুরে ৭০ হাজার ৮৩২, কুয়েতে ৪২ হাজার ৭৪৬, মালদ্বীপে ৪০ হাজার ১৫৯ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ হাজার ৭৫০ জন কর্মী গেছেন।
এছাড়া জর্ডান, কম্বোডিয়া, ইতালি ও কিরগিজস্তানেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী গেছেন। শীর্ষ ১০ গন্তব্যে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ১০ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৪, যা মোট বিদেশগামী কর্মীর প্রায় ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
সরকার নির্ধারিত হারে এসব কর্মীর অভিবাসন ব্যয় হওয়ার কথা ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে পাওয়া বর্তমান ব্যয়ের সর্বনিম্ন হার ধরলেও তা দাঁড়ায় প্রায় ৫৮ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।
রিক্রুটিং এজেন্সি বাড়লেও কমেনি দালালনির্ভরতা
বিএমইটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০। প্রতিবেশী ভারতে এ সংখ্যা ১ হাজার ৯৮৮। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি সক্রিয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিক্রুটিং এজেন্সির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমের সঙ্গে তৃণমূলের দালালচক্রও বিস্তৃত হয়েছে। অনেক এজেন্সি সরাসরি কর্মী সংগ্রহ না করে সাব-এজেন্টের মাধ্যমে কাজ করে। কিন্তু এসব দালালকে কার্যকর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি কাঠামোর আওতায় না আনায় তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দালালরা অনেক সময় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কর্মীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করেন। চাকরির নির্ভরযোগ্য তথ্য বা নিয়োগকর্তার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েই অনেক কর্মী তাদের ওপর নির্ভর করে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি ভিসা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কিস্তিতে অর্থ দেয়ার ঘটনাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগমুহূর্তে কর্মীর হাতে চুক্তিপত্র তুলে দেয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ডেটাব্যাংকের প্রস্তাব
অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়ম বন্ধে বিএমইটির অধীনে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাব্যাংক তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তার মতে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ওই ডেটাব্যাংক থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মী বাছাইয়ের আওতায় আনতে হবে।
তিনি সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় কেবল প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বা নির্ধারিত ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে নগদ লেনদেন কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত ফির বেশি অর্থ আদায় কিংবা ডেটাব্যাংকের বাইরে কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, বাংলাদেশি কর্মীদের উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের অন্যতম কারণ দক্ষতা ও ভাষাগত যোগ্যতার ঘাটতি। এতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের দরকষাকষির সক্ষমতা কমে যায় এবং বিদেশি মধ্যস্বত্বভোগী ও সাপ্লাই কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চমূল্যে ভিসা নেয়ার ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়।
তিনি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি গন্তব্য দেশগুলোতে বাংলাদেশি দূতাবাসের তদারকি জোরদার, ভিসা কেনাবেচায় স্বচ্ছতা এবং বিদেশগামী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
নির্দিষ্ট কাঠামোয় আনার উদ্যোগ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, অভিবাসন ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে সরকার কাজ করছে। তার ভাষ্য, বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয় পর্যালোচনা করে দেশভিত্তিক অভিবাসন ব্যয়ের কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
সিঙ্গাপুরের মতো শ্রমবাজারে কর্মী পাঠাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত ব্যয়ের বাইরে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ রাখা হবে না।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লেও উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, ভিসা কেনাবেচা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসন খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ফলে বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ব্যয়ের কঠোর নজরদারি এবং নিয়োগকর্তার প্রকৃত চাহিদা যাচাই—এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।














