শুক্রবার ৬ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমেরিকায় তরতর করে বাড়ছে জন ওসফের জনপ্রিয়তা

🗓 শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ২০২১ সালে প্রথম বার নির্বাচনে জিতেও ‘অ্যাক্সিডেন্টাল সেনেটর’ তকমা সেঁটে গিয়েছিল তাঁর গায়ে। তার যথেষ্ট কারণও ছিল।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রবীণ এবং নানা বিতর্কে বিদ্ধ হওয়ায় তাঁর মতো তরুণ মুখ সহজেই জয় পাবেন বলে ধরে নিয়ে ছিলেন ভোট বিশেষজ্ঞরা।

তিনি জিতেছিলেন ঠিকই। তবে সামান্যই ব্যবধানে। তিন বছর পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেই রাজ্য দখলও করে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তার পরে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, জর্জিয়া থেকে এ বার প্রার্থী হলে জন ওসফের হার নিশ্চিত! কিন্তু সব হিসেব বদলে দিয়ে সেই জর্জিয়া থেকেই আবার সেনেটর নির্বাচিত হলেন ওসফ।

শুধু জিতলেনই না, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও দেখা শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই সূত্রেই আমেরিকার রাজনীতিতে ৪০ ছুঁই ছুঁই ওসফ এখন ‘দ্বিতীয় বারাক ওবামা’!

২০০৮ সালে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে ওবামা যখন প্রথম বার প্রেসিডেন্ট হন, তাঁর বাগ্মিতা এবং বুদ্ধিদীপ্ত ভাষণ আমেরিকা তো বটেই, সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।

তাঁর কথা বলার ধরন, কোথায় কতটুকু বলতে হবে, কী বাদ দিতে হবে, সবটাই নিখুঁত কোরিয়োগ্রাফিতে বাঁধা থাকত।

ওসফের মধ্যেও তার ছাপ দেখতে পেয়েছেন আমেরিকার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ভাষণের সময়ে শরীরী ভাষাতেও বিস্তর মিল রয়েছে ওবামা এবং ওসফের মধ্যে।

ওবামা যেমন জামার হাতা গুটিয়ে ভাষণ দিতেন, ওসফও তা-ই। তাঁর শরীরের গড়নেও গাম্ভীর্য ধরা পড়ে। রয়েছে আত্মবিশ্বাসের ছাপও। সুঠাম চেহারা। তীক্ষ্ণ চোয়াল। পরিপাটি চুল।

পরনে সাধারণত থাকে সাদা বা হালকা নীল শার্টের সঙ্গে ফর্মাল ট্রাউজ়ার্স। আর ক্লাসিক টাই।

জর্জিয়ার বাসিন্দা প্যাট্রিক গারভার বলেন, ‘২০ বছর আগে ওবামাকে দেখে যেমন অনুভূতি হতো, ওসফকে দেখেও তেমনটাই মনে হয়।’

মিড টার্ম নির্বাচনে ওসফের হয়ে প্রচারেও গিয়েছিলেন ওবামা। সেখানে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সাধারণ বুদ্ধিতে তো জন ওসফ ছাড়া আর কাউকেই বেছে নেওয়া যায় না। এর একটাই কারণ। আমাদের ২ জনেরই মেন্টর একই ব্যক্তি। তিনি হলেন জন লিউস।’

এ বারের ভোটের প্রচারপর্বের শুরু থেকেই নজর কেড়েছিলেন ওসফ। ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বার বার সরব হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের কখনও ‘এপস্টিন ক্লাস’, কখনও ‘মার-এ-লাগো মাফিয়া’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এই সব শব্দবন্ধ সমাজমাধ্যমেও ভাইরাল হয়। ভোট পর্যবেক্ষকদের মতে, রিপাবলিকানদের অস্বস্তিতে ফেলার যে কৌশল ওসফ গত কয়েক বছরে রপ্ত করেছেন, তা ডেমোক্র্যাটদের অনেকের মধ্যেই নেই।

মিড টার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের পরেও ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ লেইম ডাক প্রেসিডেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন ওসফ। বলেছেন, ‘আমেরিকান জনগণ এই খামখেয়ালি, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য রিপাবলিকান নেতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমাদের কাজ কেবল একজন প্রেসিডেন্টের অনাচারকে রুখে দেওয়া নয়, বরং রোগটার নিরাময় করা।’

ভোট মিটতেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে আমেরিকায়। সেই সূত্রেই ওসফের নাম ভাসতে শুরু করেছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হতে পারেন কি না, তার সম্ভাবনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৯ শতাংশ বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে পলিমার্কেটে। শুধু তা-ই নয়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর জয়ের সম্ভাবনাও ১০.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

তালিকায় ওসফ এখন ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেকজ়ান্দ্রা ওকাসিও-কর্টেজ়ের চেয়ে চার পয়েন্ট এবং রিপাবলিকান পার্টির নেতা তথা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে।

১৯৮৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আটলান্টায় এক ইহুদি পরিবারে ওসফের জন্ম। তাঁর বাবা রুশ ও লিথুয়ানিয়ান ইহুদি বংশোদ্ভূত। মা অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পূর্ব ইউরোপে যখন ইহুদি নিধনযজ্ঞ শুরু হয়, সেই সময়েই আমেরিকায় পালিয়ে এসেছিলেন ওসফের পিতামহ।

ওসফ ২০০৯ সালে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করার পরে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পরে তিনি জর্জিয়ার কংগ্রেস সদস্য হ্যাঙ্ক জনসনের অধীনে বিদেশ এবং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে কিছু দিন কাজও করেন।

২০১৩ সালে তিনি তথ্যচিত্র নির্মাণকারী লন্ডনের একটি সংস্থা ‘ইনসাইট টিডব্লিউআই’-এর সিইও হিসেবে যোগ দেন। তাদের কাজ ছিল দুর্নীতি, যুদ্ধাপরাধ এবং মানুষ পাচারের মতো বিষয় নিয়ে তথ্যচিত্র বানানো।

২০১৭ সালে আবার রাজনীতিতে ওসফের প্রত্যাবর্তন ঘটে। কিন্তু জর্জিয়ায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীও হন। কিন্তু প্রথম বার ভোটে দাঁড়িয়ে হারতে হয়েছিল তাঁকে। তার পরে ২০২১ সালের মিড টার্ম নির্বাচনে জিতে প্রথম বার সেনেটর হন ওসফ।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর