শুক্রবার ৬ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু, প্রথম দিনেই অতিরিক্ত ভাড়াগ্রহণের অভিযোগ

🗓 শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ১২ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ১২ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডেস্ক :: আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস পর কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)।

তবে চলাচল শুরুর প্রথম দিনেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নৌযান মালিকদের বিরুদ্ধে।

চলতি পর্যটন মৌসুমে এই রুটে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটককে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন তিনটি জাহাজ এই রুটে চলাচল করার কথা।

সেন্টমার্টিন রুটে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরুর প্রথম দিনেই উঠেছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।

‘এমভি বার আউলিয়া’ নামে একটি জাহাজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট ছেড়ে যায়।

জাহাজে সর্বনিম্ন ভাড়া ধরা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব ৯৫ কিলোমিটার। সাধারণ রুটে প্রতি কিলোমিটারের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত ভাড়া ৩ টাকা ১৭ পয়সা।

সে অনুযায়ী সাধারণ নৌচলাচল রুটে এ জাহাজের সর্বনিম্ন ভাড়া হওয়ার কথা মাত্র ৩০১ টাকা। তবে পর্যটন রুট হিসেবে এখানে ভাড়ার পরিমাণ বেশি হওয়া উচিত বলে দাবি করছেন জাহাজ মালিকরা।

যদিও সাধারণ রুটের চেয়ে সাতগুণেরও বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়টিতে আপত্তি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পর্যটকরা।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন হাতিয়ার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘হাতিয়া রুটে এই জাহাজের ভাড়া ছিল ৬০০-৬৫০ টাকা। এখন দূরত্ব কমলেও ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা! এটা পুরোপুরি অযৌক্তিক’।

কুয়াকাটার বাসিন্দা খালেদ হোসাইন টিপু চাকরি করেন খুলনায়। তিনি বলেন, ‘ঢাকা-পটুয়াখালী ২৫২ কিলোমিটার রুটে চলমান সিঁড়িসহ দেশের সবচেয়ে বিলাসবহুল নৌযান চলে।

কিন্তু সেখানেও এত বেশি ভাড়া নেওয়া হয় না’।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘এমভি বার আউলিয়া’ নৌযানটি ২০২২ সালে চীন থেকে সরকারিভাবে আনা হয়।

তখন এটি চট্টগ্রাম-হাতিয়া রুটে চলত। সে সময় ১৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে নন-এসি শোভন চেয়ার ক্লাসে সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল মাত্র ৬৫০ টাকা।

পরের বছর জাহাজটি ‘কর্ণফুলী ক্রুজ লাইন’ নামের একটি বেসরকারি কোম্পানির কাছে লিজ দেয়া হয়। জাহাজটি আধুনিকায়ন করে কোম্পানিটি সেন্টমার্টিন রুটে নতুন করে চালু করেছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নিয়ে বিব্রত বিআইডব্লিউএ কর্মকর্তারাও। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে নতুন ভাড়া ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মো. আলমগীর কবীর বলেন, ‘আমরা সাধারণ রুটে লঞ্চের ভাড়া ঠিক করি। পর্যটন জোনের নয়।

তবে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের চেয়েও সেন্টমার্টিন রুটের ভাড়া অনেক বেশি, যা পর্যটনে খারাপ প্রভাব ফেলছে। তাই ৯ অক্টোবর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে একটি সমন্বয় সভা ডাকা হয়েছে।

সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও জাহাজ মালিকরা থাকবেন। বৈঠকের পরই ভাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। ঘাটের রাজস্ব বাবদ বিআইডব্লিউটিএ ৫০ টাকা নেয়, যা টিকিটের সাথে যুক্ত আছে।

আগামী বৈঠকে টিকিটের গায়ে কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা আলাদাভাবে লিখে রাখার বিষয়ে আলোচনা হবে’।

যদিও এই ভাড়া বেশি নয় বলে দাবি করছেন জাহাজ মালিকরা। তাদের বক্তব্য হলো বছরের মাত্র চার মাসের আয় দিয়ে সারা বছর কর্মচারীদের বেতন ও জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। এছাড়া ঘাটের ইজারা ও সরকারি নানা খরচ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (এসসিওএবি) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘টিকিটের দামে শুধু জাহাজ ভাড়া থাকে না।

এর সাথে পরিবেশ ফি, ঘাটের ইজারা, ট্যুর অপারেটরদের ১০ শতাংশ কমিশন, সেবা চার্জ, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির টাকা ও জ্বালানি খরচ যুক্ত থাকে। যদিও টিকিটের গায়ে এই খরচের কোনো বিবরণ লেখা থাকে না। এছাড়া এখন অনলাইনে এনআইডি দিয়ে টিকিট ও ট্রাভেল পাস নিতে হয়’।

বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ‘মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন দিয়ে পরিবেশ ফি বাতিল করেছে। তাই জাহাজ মালিকরা কিসের পরিবেশ ফি নিচ্ছেন, তা আমার জানা নেই’।

আর বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তারা মাথাপিছু ২০ টাকা করে নেন।

সেন্ট মার্টিন রুটে ভাড়া নির্ধারণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম দপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নয়ন শীল বলেন, ‘পর্যটন রুট হওয়ায় সুন্দরবনের মতো এখানে আমরা ভাড়া নির্ধারণ করিনি।

তবে পর্যটকদের অভিযোগের পর এখন ভাড়া নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে’।

এছাড়া সেন্টমার্টিনমুখী জাহাজটিতে যাত্রীর সংখ্যাও ছিল ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ট্রাভেল পাস ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেন্ট মার্টিন যাওয়ার জন্য প্রথম দিনে টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন ৮৮৬ পর্যটক।

যাত্রী কম হওয়ায় ‘এমভি কর্ণফুলী’ নামে একটি জাহাজের যাত্রা বাতিল করা হয়। ফলে এম ভি বারো আউলিয়া এইদিন ৮৮৬ জনকে নিয়েই যাত্রা করে। সাংবাদিক-পুলিশসহ জাহাজে যুক্ত হয়েছেন আরো প্রায় অর্ধশত। যদিও জাহাজটির ধারন ক্ষমতা ৮৫০ জন।

দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে বেলা সোয়া ১ টায় জাহাজটি সেন্টমার্টিন দ্বীপে নোঙ্গর করে।

এ সময় সেন্টমার্টিনবাসীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। দ্বীপে প্রথম দিনের পর্যটকদের রেখে বিকাল সাড়ে ৩ টায় জাহাজটি সঙ্গে যাওয়া সাংবাদিকদের নিয়ে পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ৮৮৬ জন পর্যটকের সবাই শুক্রবার বিকেলে (৬ নভেম্বর) ফিরে আসার কথা রয়েছে।

এবারের পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পর্যটকদের পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ মোশারফ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করছে।

পর্যটকরা যাতে নিষিদ্ধ পলিথিন ও প্লাস্টিক নিয়ে দ্বীপে যেতে না পারেন, সেজন্য ঘাটে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও তদারকি চলমান থাকবে’।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর