কক্সবাংলা ডেস্ক :: কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকায় গহিন পাহাড়ে মানব পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে প্রাণ হারান সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭)।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে বাড়ি তাঁর। তিতাসের মৃত্যুতে সেই বাড়িতে শোকের মাতম। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা; স্বামী হারিয়ে দিশাহারা স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মানব পাচারকারীদের গুলিতে আহত হন তিতাস। বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।
প্রথমে তাঁকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে মারা যান তিনি।
নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে তিতাস। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। একমাস আগে কক্সবাজারে পদায়ন পেয়েছিলেন।
সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন তিনি।
সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিতাসের মরদেহ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে লস্করদিয়ায় পৌঁছানোর কথা। সেখানে প্রিয় মানুষকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা।
শুক্রবার তিতাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সন্তান হারানোর শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর মা রেখা বেগম।
স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনের ভিড়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি।
ছেলের স্মৃতি স্মরণ করে বিলাপ করছেন।
এর মধ্যেই তিনি বলেন, “মারা যাওয়ার একদিন আগে ফোন করে সন্ত্রাসী আর মাদক কারবারিদের আস্তানায় অভিযান চালানোর কথা বলেছিল তিতাস। বলেছিল ‘ইয়াবার ডিউটিতে আছি। দোয়া করো মা।’”
একই অবস্থা স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের। মাত্র চার বছরে থেমে গেল স্বামীর সঙ্গে তাঁর পথচলা। স্বামীকে ঘিরে সাজানো ভবিষ্যৎ এখন কেবলই স্মৃতি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক শেখ বলেন, তিতাসের মৃত্যু শহীদের মর্যাদা পাওয়ার মতো। দেশের জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে তিতাস শেখের মরদেহ শুক্রবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে পৌঁছাবে বলে সেনাবাহিনী আমাদের জানিয়েছে।
বিকেল ৪টার মধ্যে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাফন করা হবে।’













