কক্সবাংলা ডটকম :: বিশ্বকাপে খেলার জন্য পেরোতে হয়েছে একাধিক বাধা। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান তবুও জারি রেখেছিল লড়াই। কিন্তু শনিবার শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গ।
মিশরের বিরুদ্ধে নাটকীয় ম্যাচের ৯৩ মিনিটে সাইদ এজাতোলাহির শট জালে জড়িয়ে যেতেই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন ইরানের ফুটবলাররা।
ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপের নকআউটে যাওয়ার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।
কিন্তু VAR চেক করে রেফারির বাজানো অফসাইডের বাঁশি যেন বাস্তবের মাটিতে আছড়ে ফেলল এশিয়ার এই দলকে। শেষ হেডটাও লাগল ক্রসবারে।
ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানের ফুটবলাররা। অন্য দিকে ১-১ গোলে ড্র করেও বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-তে পৌঁছে গেল মোহামেদ সালাহ্র মিশর।
ম্যাচের ছবি
পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যায় মিশর। বক্সে বল পেয়ে জোরালো শটে জাল কাঁপান মিশরের মাহমৌদ সাবের। ১০ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইরান।
তবে জ্বলে ওঠেন মিশরের গোলকিপার ওউফা শোবেইর। ইরানের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মেহদি তারেমির পেনাল্টি রুখে দেন তিনি। তবে তিন মিনিট পরেই গোল পায় ইরান।
গোলের কাছে দুরুহ কোণ থেকে জালে বল জড়িয়ে দেন রামিন রেজায়েইয়ান। এর পরে গোটা ম্যাচ জুড়ে একাধিক সুযোগ পেলেও ভাগ্য সহায় হয়নি ইরানের। তবে সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে খেলা শেষের ঠিক আগে।
VAR-কাঁটায় ইরানের স্বপ্নভঙ্গ
ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে ইরান ভেবেছিল জয়সূচক গোল পেয়ে গেছে তারা। সাইদ এজাতোলাহির শট জালে জড়িয়ে যেতেই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন ইরানের ফুটবলাররা কিন্তু VAR চেক করে রেফারি জানান, অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে গোল।
তিন মিনিট পরে আরও একবার ভাগ্য মুখ ফিরিয়ে নেয়। সাইদের হেড লাগে ক্রসবারে। আর সেখানেই শেষ হয়ে যায় সরাসরি শেষ ৩২-এ ওঠার আশা।
কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানের ফুটবলাররা
শেষ বাঁশি বাজার পরে আর আবেগ সামলাতে পারেননি ইরানের প্লেয়াররা। কেউ হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন, কেউ স্থির হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। সতীর্থ ও সাপোর্ট স্টাফরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। গোলদাতা রামিন-সহ একাধিক ফুটবলারকে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়। হেড কোচ আমির ঘালেনোয়েই ডাগআউটে একা বসে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন।
কী ভাবে এখনও নকআউটে উঠতে পারে ইরান?
তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে G গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরান। ইরানের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে অন্য দলগুলোর ফলাফলের উপর। সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর তালিকায় তারা এখন ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
এই তালিকা থেকে মোট আটটি দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। এখনও তিনটি গ্রুপের খেলা বাকি রয়েছে। অন্তত একটি গ্রুপের তৃতীয় স্থানাধিকারী দলকে ইরানের চেয়ে খারাপ পয়েন্টে শেষ করতে হবে।
৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, ইতিহাস গড়ল মিশর
তবে উৎসবের আবহ মিশর শিবিরে। ম্যাচ শুরুর আগেই নকআউট পর্বে যাওয়া নিশ্চিত হয়েছিল তাদের। ইরানের বিরুদ্ধে ড্র করে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ G-তে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল মো সালাহ্র টিম। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় মিশর। ৯২ বছর পরে এই প্রথম নকআউটে যোগ্যতা অর্জন করল তারা।
রাউন্ড অফ ৩২-তে গেল বেলজিয়াম
অন্য ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপশীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের নক আউটে পৌঁছে গেল বেলজিয়াম। জোড়া গোল করলেন লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্দ। স্কোরশিটে নাম তুললেন কেভিন ডি ব্রুইনও।














