বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পুনর্গঠনের চেষ্টা আওয়ামী লীগের

🗓 শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৭৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৭৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১ আগস্ট) :: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সংকটের মুখোমুখি হয়।

দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা, শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলা, অসংখ্য নেতা-কর্মীর কারাবাস ও আত্মগোপনের মধ্যেও আওয়ামী লীগ এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের টিকিয়ে রাখার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটি এখনো আত্মসমালোচনা বা সাংগঠনিক সংস্কারের পথে না গিয়ে মূলত পুরোনো কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৎপরতা

গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই দলীয় কর্মকাণ্ড তদারকি করছেন। দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে না এলেও তিনি নিয়মিতভাবে অনলাইনে জেলা, উপজেলা, থানা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করছেন এবং সাংগঠনিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

সম্প্রতি শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। একই সঙ্গে তিনি আত্মগোপনে থাকা নেতাদেরও দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, তাঁর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে এবং সংগঠন গোছানোর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

সংস্কার নয়, নেটওয়ার্ক সচল রাখাই প্রধান লক্ষ্য

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। প্রথমত, কেন দলটি জনসমর্থন হারাল এবং গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলো—তা বিশ্লেষণ করে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান নেতৃত্ব ও কাঠামো বহাল রেখে সংগঠনের নেটওয়ার্ক সচল রাখা এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশের অপেক্ষা করা।

এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে দ্বিতীয় কৌশলটিই বেশি দৃশ্যমান। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বরং জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং অনলাইন যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তৃণমূলে কমিটি পুনর্গঠন

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১৭টি জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। কোথাও পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে, আবার কোথাও সমন্বয়কারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জুলাই মাসে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অধীনে মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর ও কাফরুল থানার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডেও নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোও সীমিত পরিসরে নতুন কমিটি গঠন করছে।

দলীয় নেতাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সম্মেলন আয়োজন সম্ভব নয়। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো সচল রাখার মাধ্যমেই দলকে ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়া নেতারা;
  • এলাকায় অবস্থান করে দলীয় যোগাযোগ রক্ষা করতে সক্ষম ব্যক্তিরা;
  • স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও সংগঠন পরিচালনায় সক্ষম নেতা;
  • সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সামর্থ্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা;
  • অনলাইন প্রচার, ভার্চ্যুয়াল সভা ও ঝটিকা কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীরা।

ফলে রাজনৈতিক দক্ষতা বা জনসম্পৃক্ততার পাশাপাশি আনুগত্য ও সক্রিয়তাও এখন নেতৃত্ব নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে উঠেছে।

অনলাইনভিত্তিক নতুন সাংগঠনিক কাঠামো

ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। টেলিগ্রাম, জুম, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন দলীয় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

এর ফলে তৃণমূলের অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত অনেক নেতা সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে একদিকে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটছে, অন্যদিকে প্রচলিত সাংগঠনিক স্তর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধাপ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

দলীয় নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংকটের বাস্তবতা

বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতা বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। অনেক নেতা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, আবার অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করাও দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অনলাইন প্রচার, ঝটিকা মিছিল এবং তৃণমূলের সীমিত পুনর্গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

সামনে বড় প্রশ্ন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে সাত দশকের বেশি সময় অতিক্রম করেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটি যে সংকটে পড়েছে, তা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে দলটির পুনর্গঠন প্রচেষ্টা মূলত সংগঠন টিকিয়ে রাখা ও কর্মীদের সক্রিয় রাখার কৌশল হিসেবেই দৃশ্যমান। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতের শাসনব্যবস্থা, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, জনঅসন্তোষ এবং গণ-অভ্যুত্থানের কারণগুলো নিয়ে আত্মসমালোচনা ও সংস্কার ছাড়া হারানো জনআস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

ফলে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে—দলটি কেবল সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্ব ও কৌশলে বাস্তব পরিবর্তন আনার সাহস দেখায় তার ওপর।

এই বিভাগ এর আরো খবর

কৃষিপণ্যে বছরে ক্ষতি ২৯ হাজার কোটি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর