মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৪জন নিহত এবং ৫জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নস্হ নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন- মো.জসিম উদ্দিন (২৫) উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সেগুনবাগিচা এলাকার মৃত মতিউর রহমান ছেলে, মো.রফিক(২৮) ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম গজালিয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেম ছেলে, মো.শাহেদ (২৭) উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের শিয়াপাড়া এলাকার মৃত মঞ্জুর আলম ছেলে এবং মো.জিয়াবুল হক(২৫) ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে।
এসময় গুরুতর আহত হয়েছেন- জিয়াবুল হক (৪০) ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন অফিস মাদ্রাসা পাড়া আব্দুল সামাদের ছেলে, মো.সরোয়ার (১৯) একই উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী এলাকার সৈয়দ আলমের ছেলে, সৈয়দ আলম (৫০) একই এলাকার আলী মিয়ার ছেলে, মো.দেলোয়ার হোসেন (৩৫) খুটাখালী ইউনিয়নের মেদাকচ্ছপিয়া এলাকার বদরুদ্দোজার ছেলে ও সৈয়দ করিম(৩০) টেকনাফ উপজেলার কিরনতলী এলাকার মো. রহমত করিমের ছেলে।
এদের কিছু সদর হাসপাতাল আর কিছু মালুমঘাট খ্রিষ্টান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দূর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন মালুমঘাট হাইওয়ে থানার সাব-ইন্সুপেক্টর শামসুজ্জামান।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নাম্বার বিহীন চার চাকার জিটু গাড়ীটি যাত্রী নিয়ে চকরিয়া দিকে আসছিল।
এসময় কক্সবাজারমুখি যাত্রীবাহি এসি লাল-সবুজে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে জিটু গাড়ীটির (ছাড়পোকা) ছাদ ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায় আর গাড়ীটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে গাড়ীটির চালক সহ ৮যাত্রী গুরুতর আহত হয়।
তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিক খবরটি পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার কওে কিছু সদর হাসপাতালে আর কিছু খ্রিষ্টান হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসাকালে ৪জন যাত্রী মারা যান আর বাকী ৫জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ীগুলো জব্দ করা হয়েছে। তবে এসি বাসের চালক ও হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
এদিকে, ব্যস্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী এলাকায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, অনিয়মিত যানবাহন চলাচল ও চালকদের অসতর্কতাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তারা মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন ও নম্বরবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।














