কক্সবাংলা ডটকম(২৮ অক্টোবর) :: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা পাঁচ দিন দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময়ে দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে।
এদিকে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি বুধবারের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কায় ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কায় প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় স্কুল বন্ধ ও সামরিক বাহিনীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী চার দিনের পূর্বাভাস
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
ভারতে ব্যাপক সতর্কতা
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মঙ্গলবারের এক বুলেটিনের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ‘অর্ণব’ উপকূলে আঘাত হানার সময় ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৭ মাইল) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে পারে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে বন্যা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঝড়ের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যটির নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের কারণে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায়ও স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, এই ঝড়ের ফলে সেখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র।
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ‘হারিকেন’ এবং প্রশান্ত মহাসাগরে ‘টাইফুন’ নামে পরিচিত ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিয়মিত দুর্যোগের কারণ। তবে নজিরবিহীন উষ্ণতা সৃষ্টিকারী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে এবার ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।













