কক্সবাংলা ডটকম(১ নভেম্বর) :: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর দাপটে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে দু’রাজ্যের একাধিক জেলায়। পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টি হয়েছে।
সেই দুর্যোগের রেশ কাটতে না-কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ফের নতুন ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি।
আবহবিদদের অনুমান, ‘অর্ণব’-এর মতো একই ভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে হানা দিতে পারে নতুন ঘূর্ণিঝড়। আগামী সোমবার সেটি অন্ধ্র উপকূলের মছলিপত্তনমের কাছে আছড়ে পড়তে পারে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার বিশেষ বুলেটিনে মৌসম ভবন জানিয়েছে, দক্ষিণ আন্দামান সাগর, উত্তর আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের উপরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল অবস্থান করছিল।
শুক্রবার সেটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান সাগরের উপরে একটি নিম্নচাপে পরিণত হয়।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার আরও ঘনীভূত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কথা সেটির।
তার পরের ১২ ঘণ্টার মধ্যে সেই গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় যে তৈরি হবেই, তা নিশ্চিত ভাবে বলেনি মৌসম ভবন।
তবে যদি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, সেটির নাম হবে ‘মুরাসু’। সেটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে আগামী ২ নভেম্বর, অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যার দিকে মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। এটির প্রভাব সরাসরি বাংলায় পড়বে না বলেই আপাতত অনুমান। তবে এটির গতিবিধির দিকে নজর রাখছেন আবহবিদরা।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নাম রেখেছিল বাংলাদেশ। ‘মুরাসু’ নামটি ভারতের দেওয়া। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ হলো ঢোল বা ঢাক জাতীয় এক ধরনের প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র।
প্রাচীনকালে এই বাজনা বাজিয়েই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হতো।
প্রসঙ্গত, ভারত মহাসাগরের উত্তরে অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরে এবং আরব সাগরে আসা ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের একটা পদ্ধতি আছে। বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন— এই ১৩টি দেশ প্রত্যেকে ১৩টি করে নাম প্রস্তাব করে। এই ১৬৯টি নাম নিয়ে বর্ণানুক্রমিক তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা থেকেই বাছা হয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম।













