সোমবার ২ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা? জরুরি রসদ মজুত রাখতে বলছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ?

🗓 সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল, বন্ধ হয়ে গেল জল সরবরাহ, কাজ করছে না মোবাইল নেটওয়ার্ক—এমন পরিস্থিতিতে কী ভাবে কাটাবেন পরের তিন দিন? এই প্রশ্নই এ বার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রিটেন, আমেরিকা, ইউরোপের দেশগুলির কাছে।

সাধারণ মানুষকে অন্তত ৭২ ঘণ্টার জরুরি রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের একাধিক দেশ। অনেকেই বলছে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি। কিন্তু আদতে বিষয়টি তা নয়। এই যুদ্ধ কিন্ত বন্দুক, গোলা-কামানের লড়াই নয়। এক অজানা শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই অর্থাৎ ‘সাইবার ওয়ারফেয়ার’। অর্থাৎ সাইবার হামলা, নাশকতা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো একাধিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দিচ্ছে এই দেশের সরকারগুলি।

কোথায় কী ঘটেছে?

২২ অক্টোবর ব্রিটেন সরকার জানিয়েছে প্রত্যেকের বাড়িতে অন্তত তিন দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখতে। এই তালিকায় রয়েছে পানীয় জল, দীর্ঘদিন রাখা যায় এমন খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী, নগদ টাকা, পাওয়ার ব্যাঙ্ক এবং ব্যাটারি ছাড়াই চালানো যায় এমন রেডিয়ো।

আমেরিকাও নিয়েছে একাধিক প্রস্তুতি। পেন্টাগন ‘FORTRESS’ নামে একটি প্ল্যান বানিয়েছে তারা। যেখানে বলা হয়েছে, বড় সামরিক ঘাঁটিগুলিকে বাইরের সাহায্য ছাড়াই ৯০ দিন চলতে পারে এমন রসদ মজুত করে রাখতে। আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে ১ নভেম্বর থেকে বাসিন্দাদের জন্যও রসদ মজুত করার পরামর্শ দিয়েছে। জাপানেও ২ নভেম্বর থেকে বাসিন্দাদের জরুরি জিনিস মজুত রাখার জন্য বলা হয়েছে।

কিছুদিন আগেই ফ্রান্সের প্যারিসের কিছু সুপারমার্কেটে হ্যাকাররা রাতারাতি শত শত রেফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় এবং প্রচুর খাবার নষ্ট হয়ে যায়। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লুকর্নু ফ্রান্সের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন। আর এরপর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

কেন বাড়ছে এই সতর্কতা?

এর পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় সাইবার হামলার আশঙ্কা, নাশকতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব মিলিয়ে জরুরি পরিষেবা যে কোনও সময় সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দল বা প্রশাসনের সাহায্য পৌঁছতেও অনেকটা সময় লাগতে পারে। তাই প্রথম তিন দিন নিজেদের সামলে রাখার মতো প্রস্তুতি থাকলে বিপদের সঙ্গে মোকাবিলা করা অনেকটা সহজ হবে বলে মনে করছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

পাশাপাশি প্রযুক্তিবিদদের মতে, সাইবার হ্যাকাররা এখন কোনও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট, সিস্টেম হ্যাক করে তথ্য চুরি করার থেকেও একধাপ এগিয়ে ভাবছে। দেশের নাগরিক জরুরি ব্যবহারের জিনিস, খাবারের মতো সামগ্রীকে নষ্ট করে দিয়ে সেখানকার পরিকাঠামোকে পঙ্গু করে দিতে চাইছে হ্যাকাররা, এমনটাই মনে করছেন প্রযুক্তিবিদদের একাংশ।

বাড়িতে কী কী মজুত রাখা হচ্ছে?

জরুরি পরিস্থিতির জন্য পানীয় জল, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, ফার্স্ট এইড কিট, টর্চ, ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, কিছু নগদ টাকা এবং জরুরি ফোন নম্বর লিখে রাখা দরকার। পরিবারের শিশু, বয়স্ক সদস্য বা পোষ্য থাকলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও রাখতে হবে। তবে ৭২ ঘণ্টার প্রস্তুতির পরামর্শ কোনও আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস নয়। বরং বিপর্যয়ের সময় আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আগাম পরিকল্পনা।

এই বিভাগ এর আরো খবর

‘রামায়ণ’ মুক্তি পাচ্ছে নভেম্বরে

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

কৃষিপণ্যে বছরে ক্ষতি ২৯ হাজার কোটি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর